দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের অস্থিরতা নিরসন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে নিলামের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে আরও ৪ কোটি মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান ডলার কেনার এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মূলত পাঁচটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে এই বিপুল পরিমাণ ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে। এবারের নিলামে প্রতি ডলারের বিপরীতে কাট-অফ মূল্য বা বিনিময় হার নির্ধারণ করা হয় ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকেই ডলারের বাজারে তারল্য প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে নিয়মিতভাবে ডলার কেনা হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় মে মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত কয়েক দফায় মোট ২১ কোটি ডলার কেনা হয়েছে। আমদানির চাপ সামলানো এবং খোলা বাজারে ডলারের দরের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি রোধ করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদরা।
চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নিলামের মাধ্যমে মোট ৫৮৮ কোটি ৩৫ লাখ ডলার ক্রয় করেছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৫ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। নিয়মিত বিরতিতে ডলার ক্রয়ের ফলে বাজারে স্থানীয় মুদ্রার সরবরাহ যেমন বাড়ছে, তেমনিভাবে বড় অংকের আমদানির দায় মেটাতে ব্যাংকগুলোর কাছে থাকা ডলারের সংকটও ক্রমান্বয়ে প্রশমিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, বাজারের চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগামীতেও এ ধরনের নিলাম অব্যাহত থাকতে পারে। মুদ্রাবাজারের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নীতিগত অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ব্যাংকিং খাত। ডলার ক্রয়ের ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার পাশাপাশি বিনিময় হারেও এক ধরনের ভারসাম্য ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সময়ের আলো/টিএইচ