প্রকাশ: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৫:০৭ পিএম আপডেট: ১৬.০৫.২০২৬ ৫:০৮ পিএম
শরীয়তপুরে মব জাস্টিসের শিকার চিকিৎসক। ছবি : সংগৃহীত শরীয়তপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডা. নাসির ইসলাম নামে এক চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। মব তৈরি করে ওই চিকিৎসককে কয়েক দফায় মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে জরুরি ভিত্তিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠানো হয়। শনিবার (১৬ মে) দুপুর দেড়টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর চিকিৎসককে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ডা. নাসির শরীয়তপুর হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। শুক্রবার রাতে এক রোগী বুকের ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে আসেন। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রোগীকে ঢাকার হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে রেফার্ড করা হয়। তবে রোগীর স্বজনরা ঢাকায় নিতে রাজি না হয়ে সেখানেই চিকিৎসা দিতে বলেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগীর মৃত্যু হয়।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকের অবহেলায় রোগী মারা গেছে, এমন অভিযোগ তুলে ডা. নাসিরকে মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে তিনি হাসপাতালের বাথরুমে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে তাকে ধরে রাস্তায় নিয়ে গিয়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন মিলে মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে রাতে স্থানীয়ভাবে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় আনা হয়। বর্তমানে তিনি স্থিতিশীল আছেন এবং ঢাকা মেডিকেলের নিউরোসার্জনরা তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। আশা করা হচ্ছে, তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে কাজে ফিরতে পারবেন।
সচিব আরও বলেন, স্বরাষ্ট্র সচিবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হামলাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে। এদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. জাহিদ রায়হানকে হত্যার হুমকি দিয়ে চিঠি দেওয়ার বিষয়েও কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, নামবিহীন একটি চিঠি এসেছে, তবে তিনি এটিকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। বিষয়টি মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়েছে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. রফিকুল ইসলাম, ঢাকা মেডিকেল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান, উপ-পরিচালক ডা. আশরাফুল আলমসহ চিকিৎসকরা।
আরবিএন