রাজনীতির নামে অরাজকতা করলে সরকার বসে থাকবে না : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

রাজনীতির অপব্যবহার করে দেশে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা অরাজকতা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালানো হলে তা কঠোরহস্তে দমন করা হবে এবং

2026-05-16T20:51:31+00:00
2026-05-16T20:51:31+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬,
১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয়
রাজনীতির নামে অরাজকতা করলে সরকার বসে থাকবে না : প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৮:৫১ পিএম 
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাজনীতির অপব্যবহার করে দেশে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা অরাজকতা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালানো হলে তা কঠোরহস্তে দমন করা হবে এবং সরকার তা নীরবে বসে দেখবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ শুরু করেছে। 

শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দিতে তিনি দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর শৈশবের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি রাজনীতি মানে খাল খনন ও কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি করা। রাজনীতি মানে নতুন নতুন মিল-কলকারখানা তৈরি করে লাখ লাখ বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। রাজনীতি মানে মানুষের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া। এটাই হচ্ছে আমাদের মূল রাজনৈতিক আদর্শ।’ 

তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে দেশব্যাপী গণসংযোগকালে তিনি মা-বোনদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, সরকার গঠন করতে পারলে দেশের ৪ কোটি পরিবারের মায়েদের কাছে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। আল্লাহর রহমতে সরকার গঠনের মাত্র এক মাসের মধ্যেই গ্রামের খেটে খাওয়া ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের অগ্রাধিকার দিয়ে এই কার্যক্রম সফলভাবে শুরু করা সম্ভব হয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ডের পরিধি বৃদ্ধি ও আসন্ন জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকে এখনো এই কার্ড পাননি, তবে এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। বর্তমান সরকার যে আর্থিক বাজেট থেকে এই জনকল্যাণমূলক কাজ শুরু করেছে, সেটি মূলত পূর্ববর্তী অন্য একটি সরকারের তৈরি করা এবং স্বাভাবিকভাবেই তাদের বাজেটে এই ফ্যামিলি কার্ডের জন্য কোনো বরাদ্দ ছিল না। 

তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ আগামী মাসে সংসদে নতুন বাজেট উপস্থাপন করা হবে। নতুন বাজেট পাস হওয়ার সাথে সাথেই আমরা দেশের আরও বিপুল সংখ্যক মায়ের কাছে এই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে সক্ষম হব। আমাদের লক্ষ্য হলো আগামী চার থেকে সাড়ে চার বছরের মধ্যে বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জের প্রায় প্রতিটি পরিবারের কাছে এই কার্ডের সুবিধা নিশ্চিত করা।’

দেশের নারী শিক্ষার উন্নয়ন ও নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক নতুন উদ্যোগের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনা করেছিলেন, তখন তিনি মেয়েদের শিক্ষা দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত সম্পূর্ণ অবৈতনিক বা ফ্রি করে দিয়েছিলেন। 

সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে, দেশের নারীদের শিক্ষার সুযোগ আরও প্রসারিত করতে স্নাতক বা ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা অতিদ্রুত সম্পূর্ণ ফ্রি করে দেওয়া হবে। এর ফলে মেয়েদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণে পরিবারকে কোনো বাড়তি খরচ বহন করতে হবে না। শুধু তাই নয়, ছাত্রীদের মধ্যে যারা পরীক্ষায় ভালো ফলাফল বা মেধার স্বাক্ষর রাখবে, তাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি জানান।

চাঁদপুর অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্থানীয় জনসাধারণের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী একটি নতুন ইপিজেড (রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল) স্থাপনের ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক নাগরিকের ইপিজেডের দাবি সম্বলিত সাইনবোর্ড উঁচিয়ে ধরার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, চাঁদপুরেরই সন্তান এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীকে তিনি আজ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। বিডার চেয়ারম্যান দ্রুততম সময়ের মধ্যে সার্বিক সম্ভাব্যতা যাচাই করবেন এবং বাস্তবসম্মত হলে চাঁদপুরে দ্রুত একটি আধুনিক ইপিজেড গড়ে তোলা হবে।

বক্তব্যের শেষভাগে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক মুক্তি ও ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বাইরে থেকে কোনো বিদেশি লোক এসে আমাদের এই সোনার দেশ গড়ে দিয়ে যাবে না। যদি ২০ কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হয়, তবে আমাদের ৪০ কোটি হাতকে দক্ষ শ্রমিকের শক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে। আমরা ১৯৭১ সালে যেমন রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে দেশকে স্বাধীন করেছিলাম, ঠিক একইভাবে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনের মাধ্যমে দেশকে পুরোপুরি স্বৈরাচারমুক্ত করেছি। এখন আমাদের প্রধান কাজ হলো দেশ গঠন করা এবং সাধারণ মানুষের ভাগ্যের আমূল পরিবর্তন আনা।’

সময়ের আলো/টিএইচ
Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: