স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে গাফিলতি হলে কঠোর ব্যবস্থা : মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষা

স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে খাবারের মানে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুশিয়ারি

2026-05-16T22:10:40+00:00
2026-05-16T22:10:40+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
শিক্ষা
স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে গাফিলতি হলে কঠোর ব্যবস্থা : মন্ত্রণালয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ১০:১০ পিএম 
প্রতীকী ছবি
স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে খাবারের মানে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। 

মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছে, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণকৃত পুষ্টিকর খাদ্যের মান নিশ্চিত করতে কোনো প্রকার শৈথিল্য সহ্য করা হবে না এবং অনিয়ম পাওয়া গেলে বিভাগীয় মামলাসহ কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে পচা ডিম, পচা বনরুটি এবং নষ্ট কলা বিতরণের মতো গুরুতর অভিযোগ আসার পর শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। 

শনিবার (১৬ মে) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিশেষ প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে দেশের প্রকল্পভুক্ত ১৫০টি উপজেলার সমস্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের কাছে এই সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে খাদ্যসামগ্রী বুঝে নেওয়ার পূর্বেই সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে এবং অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করে নিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নিম্নমানের, পচা বা ত্রুটিপূর্ণ খাবার কোনো স্কুল গ্রহণ করতে পারবে না এবং তা কোমলমতি শিশুদের মাঝে বিতরণও করা যাবে না। 

যদি কোনো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের বা নষ্ট খাবার দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে প্রধান শিক্ষকরা তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান করবেন এবং বিষয়টি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন। এই তদারকি কাজে শিক্ষকদের কোনো ধরনের অবহেলা বা আপসকামিতা ধরা পড়লে তাঁদের বিরুদ্ধেও সমভাবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের খাদ্যের গুণগত মান ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে প্রধান শিক্ষকদের জন্য বেশ কিছু বাধ্যতামূলক ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাবলি দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্কুল ফিডিং-এর জন্য সরবরাহকৃত বনরুটি সম্পূর্ণ তাজা, নরম এবং সঠিকভাবে মোড়কজাত বা প্যাকেটজাত করা কিনা তা ভালো করে পরীক্ষা করতে হবে। 

রুটির প্যাকেট কোনোভাবেই ছেঁড়া বা অক্ষত ছাড়া হতে পারবে না এবং তা সম্পূর্ণ পচন, ক্ষতিকারক ফাংগাস বা যেকোনো ধরনের দুর্গন্ধমুক্ত হতে হবে। একই সঙ্গে রুটির প্যাকেটের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং সুনির্দিষ্ট নেট ওজন (১২০ গ্রাম) উল্লেখ থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী বিতরণের ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ম বেঁধে দিয়েছে মন্ত্রণালয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, সরবরাহকৃত ডিম কোনোভাবেই ফেটে যাওয়া, দুর্গন্ধযুক্ত বা পিচ্ছিল হতে পারবে না। শিশুদের দেওয়া কলা অবশ্যই দাগহীন ও সম্পূর্ণ পোকামুক্ত হতে হবে; বেশি পাকা বা পচা ও আকারে ছোট কলা কোনোভাবেই গ্রহণ করা যাবে না। 

এ ছাড়া ইউএইচটি মিল্ক এবং ফর্টিফাইড বিস্কুটের ক্ষেত্রেও প্যাকেজিং পুরোপুরি অক্ষত থাকার পাশাপাশি প্যাকেটের গায়ে লেখা উৎপাদন-মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং নেট ওজন নিখুঁতভাবে যাচাই করতে হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সম্প্রতি অত্যন্ত নিম্নমানের পচা খাবার বিতরণের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। 

এই ধরনের অনিয়মের কারণে একদিকে যেমন মানসম্মত পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি দেশের কোমলমতি শিশুদের ডায়রিয়াসহ নানা প্রকার বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে। এই জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের স্বচ্ছতা ফেরাতেই মূলত সরকার এমন কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে।

সময়ের আলো/টিএইচ


Loading...
Loading...
শিক্ষা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: