রূপসা ও নাটোরের পটভূমিতে কবি জীবনানন্দ দাশের কালজয়ী কবিতা ‘বনলতা সেন’ অবলম্বনে সিনেমা বানিয়েছেন ছোটপর্দার নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জল। ‘বনলতা সেন’ নামে এই সিনেমাটি একাধিকবার মুক্তির তারিখ পিছিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে প্রেক্ষাগৃহে আসছে ঈদুল আজহায়। মুক্তি উপলক্ষে সম্প্রতি সিনেমার একটি পোস্টার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন পরিচালক ও অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা।
পোস্টারে দেখা যাচ্ছে, কারুকার্যখচিত এক বিশালাকৃতির বন্ধ ফটক, যার দরজার ওপর শোভা পাচ্ছে ময়ূরের পেখমসদৃশ একটি বিশাল রাজমুকুট।
দরজার বড় একটি চাবির ছিদ্রে এক ব্যক্তি উঁকি দিচ্ছেন। ব্যতিক্রমধর্মী এই পোস্টারটি সামাজিকমাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে। কৌতুল বাড়িয়েছে দর্শকদের মাঝে।
নিজের ফেসবুকে পোস্টারটি প্রকাশ করে পরিচালক মাসুদ হাসান উজ্জল ক্যাপশনে লিখেছেন, না, এ কোনো যন্তরমন্তরের ঘর নয়। যে ঘরের চাবি আছে, তবু তালা খোলার কোনো পথ নেই! কে থাকে সেই ঘরে? ‘বনলতা সেন’ আসছে এই ঈদে, আপনার নিকটস্থ প্রেক্ষাগৃহে।
ফেসুবকে পোস্টারটি প্রকাশ করে একই ক্যাপশন লিখেছেন মাসুমা রহমান নাবিলাও। সিনেমাটি নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত তিনি। প্রতিক্রিয়া জানিয়ে গণমাধ্যমকে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘অনেক দিনের অপেক্ষা শেষ হলো। একটা সময় তো আমরা নিজেরাই ভাবছিলাম যে, সিনেমাটা আদৌ মুক্তি পাবে কি না! যেহেতু পোস্টের কাজ ভারতে হচ্ছিল, মাঝে সেখানে যাওয়ার ভিসা নিয়েও নানা জটিলতা ছিল, যে কারণে এত দেরি হলো। অবশেষে সিনেমাটা মুক্তি পাচ্ছে, আমি ভীষণ খুশি।’
‘বনলতা সেন’ মাসুদ হাসান উজ্জলের দ্বিতীয় সিনেমা। ২০২৪ সালে সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনা করেছিলেন নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সে সময় মুক্তি স্থগিত করা হয়। পরে গত বছরের ঈদুল ফিতরে সিনেমাটি মুক্তির আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।
২০২১-২২ অর্থবছরে ৭০ লাখ টাকা সরকারি অনুদান পাওয়া এই সিনেমাটি ১২ এপ্রিল সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে বিনা কর্তনে মুক্তির অনুমতিপত্র (সেন্সর) পেয়েছে। সিনেমায় নাম ভূমিকায় দেখা যাবে নাবিলাকে। এ চরিত্রে তার অভিনয় করার গল্পটি বেশ চমকপ্রদ।
নাবিলা বলেন, ‘সিনেমার পরিচালক উজ্জল ভাই প্রথমে আমাকে অন্য একটি চরিত্রের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু পুরো চিত্রনাট্য পড়ার পর আমি এর প্রেমে পড়ে যাই। পুরো গল্পটা চোখের সামনে ভেসে উঠছিল। আমি ওনাকে সুন্দর করে বললাম, আপনি যদি আমাকে ‘বনলতা সেন’ চরিত্রটি করতে বলতেন, তবে এককথায় রাজি হয়ে যেতাম। এরপর অনেক দিন পর তিনি আমাকে আবার ডাকেন। টানা তিনবার অডিশন দেওয়ার পর আমি এই চরিত্রের জন্য চূড়ান্ত হই।’
নাবিলা ছাড়াও কবি জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে অভিনয় করেছেন খায়রুল বাসার। এ ছাড়া আরও অভিনয় করেছেন সোহেল মণ্ডল, নাজিবা বাশার, প্রিয়ন্তী উর্বী, রূপন্তী আকিদ, শরিফ সিরাজ ও সুমাইয়া খুশি।
সময়ের আলো/জেডআই