ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে এখন ফুটবল দুনিয়ায় চলছে উন্মাদনা ও অপেক্ষার উত্তেজনা। আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার মাটিতে বসতে যাচ্ছে ৪৮ দলের মহাযুদ্ধ। টুর্নামেন্ট শুরুর আর মাত্র ২৫ দিন বাকি থাকতেই প্রতিদিনের মতো বিশেষ ইতিহাস তুলে ধরছে ফিফা।
এই কাউন্টডাউনের অংশ হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি অধিনায়ক দানিয়েল পাসারেলা, যিনি ফুটবল ইতিহাসে পরিচিত ‘এল গ্রান কাপিতান’ নামে। স্প্যানিশ ভাষায় যার অর্থ ‘মহান অধিনায়ক’।
আর্জেন্টিনার এই দুর্দান্ত সেন্টার ব্যাক ১৯৭৮ বিশ্বকাপে সর্বকনিষ্ঠ অধিনায়ক হিসেবে দেশকে বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেন। ফাইনালে বুয়েন্স আয়ার্সের এস্তাদিও মনুমেন্তালে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২৫ বছর ৩০ দিন।
বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে তার চেয়ে বেশি বয়সে অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ জেতেন ইংল্যান্ডের ববি মুর, যিনি ১৯৬৬ সালে দলকে শিরোপা এনে দেন।
আরও পড়ুন
বিশ্বকাপ জয়ের পর পাসারেলার ট্রফি জয়ের উচ্ছ্বাস ছিল স্মরণীয়। সতীর্থদের মতে, তিনি ট্রফিটি এতটাই আগলে রেখেছিলেন যেন সেটি নিজের সন্তান। সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে সতীর্থ মারিও কেম্পেস জানান, পাসারেলা কাউকেই ট্রফিটি ছুঁতেও দিচ্ছিলেন না এবং পুরো উদযাপনে সেটিকে নিজের কাছেই ধরে রেখেছিলেন।
শারীরিক গঠনে তুলনামূলকভাবে খাটো হওয়া সত্ত্বেও (১.৭৩ মিটার), পাসারেলা ছিলেন আকাশি-নীল জার্সির এক দুর্দান্ত শক্তি। তার সঙ্গী লুইস গালভান (১.৭৪ মিটার) ছিলেন ইতিহাসের অন্যতম ছোট সেন্টার ব্যাক জুটি, যারা বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
ডিফেন্ডার হয়েও গোল করার দক্ষতায় তিনি ছিলেন অনন্য। হেডিং গোলের দিক থেকে তিনি ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম সফল ডিফেন্ডার হিসেবে বিবেচিত। আর্জেন্টিনার ইতিহাসে তিনিই একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি দুটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন- ১৯৭৮ ও ১৯৮৬ সালে, দ্বিতীয়বার ডিয়েগো ম্যারাডোনার নেতৃত্বে।
এএডি/