জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার দাবি এবং নিরাপত্তা ঘাটতির দায়ে প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা।
পূর্ব ঘোষণার অংশ হিসেবে রবিার (১৭ মে) সকাল ১০টার দিকে তারা প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে দেন। এসময় তারা সেখানে অবস্থান নেন এবং প্রক্টরিয়াল বডির বিরুদ্ধে দায়িত্বে ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন।
ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার পর গত ৫ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন জাবি শিক্ষার্থীরা। তবে অভিযুক্ত এখনও গ্রেফতার না হওয়ায় তাদের আন্দোলন চলছে। এদিকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাকসু নেতারাও।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ছয় দফা দাবি তুলেছেন। তার মধ্যে প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি হচ্ছে, দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা। এ দাবিতে চাপ সৃষ্টি করতেই প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়া হয়েছে। তবে জরুরি প্রয়োজনে শিক্ষার্থীরা ভবনে প্রবেশ ও বের হতে পারবেন বলেও জানান আন্দোলনকারীরা।
এদিকে গতকাল শনিবার ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয় থেকে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গঠিত কমিটিতে ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মো. সোহেল রানাকে সভাপতি করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নাহিদ আখতার, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক নাসরীন সুলতানা, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. কামরুজ্জামান, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মো. জহির রায়হান এবং সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তি শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান আরিফ।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকায় এক নারী শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে টেনে নিয়ে পাশের জঙ্গলে ধর্ষণচেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় বুধবার অজ্ঞাতদের আসামি করে আশুলিয়া থানায় মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের জন্য সেদিনই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সময় বেঁধে (আল্টিমেটাম) দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। নির্দিষ্ট সময়ে গ্রেফতারে ব্যর্থ হলে প্রক্টরের পদত্যাগের দাবি জানান তারা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে তার কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, অভিযুক্ত গ্রেফতার ও নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।
/মহু