চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে মোস্তাকিম কামাল তামিম (২২) নামে এক মাদরাসারছাত্র নিহত হয়েছেন।
রোববার (১৭ মে) রাত পৌনে ১০টার দিকে লোহাগাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
তামিম কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভা ২ নম্বর ওয়ার্ডের হালকাকারা সওদাগর পাড়ার রাশেদ কামালের ছেলে এবং আধুনগর ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার ফাজিল ২য় বর্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে তামিম লোহাগাড়া বটতলী মোটর স্টেশন থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে আধুনগর মাদরাসায় যাচ্ছিলেন। অটোরিকশাটি পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা চট্টগ্রামমুখী ‘হানিফ পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তামিম গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে লোহাগাড়া সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠান। পরে চমেক হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তামিমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ও শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে হানিফ পরিবহনের বেশ কয়েকটি যাত্রীবাহী বাস আটকে রেখে প্রতিবাদ জানায়। এতে সড়কে যান চলাচল বিঘ্নিত হয়।
লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল্লাহ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা স্থানীয় জনতা ও হানিফ পরিবহন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
নিহতের সহপাঠী মুহাম্মদ আবদুল্লাহ জানান, সোমবার (১৮ মে) সকাল ১০টায় চকরিয়ায় নিহতের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ঘাতক বাসটির বিরুদ্ধে এবং এই দুর্ঘটনার সামগ্রিক বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান।
সময়ের আলো/জোই