ইরান ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অব্যাহত হুমকির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে জার্মানিতে থাকা মার্কিন বিমান ঘাঁটি থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ বহনকারী কয়েক ডজন সামরিক কার্গো বিমান ইসরায়েলে অবতরণ করেছে।
ইসরায়েলের গণমাধ্যম ‘চ্যানেল ১৩’ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় এই বিমানগুলো তেল আবিবে এসে পৌঁছেছে। ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় যুদ্ধ শুরুর প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এগুলো দেশটিতে অবতরণ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যে এক কড়া বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (১৭ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি প্রতীকী ছবি পোস্ট করেন তিনি। ছবিতে ইরানের একটি মানচিত্রের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা এবং এবং চারদিক থেকে তীরচিহ্ন ইরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যা মূলত দেশটির ওপর মার্কিন সামরিক চাপ ও চারদিক থেকে ঘেরাও-এর ইঙ্গিত দেয়।
ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’ (KAN) এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে পুনরায় সংঘাতের আশঙ্কায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই রোববার (১৭ মে) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। আধা ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই ফোনালাপে ইরানের সঙ্গে আবার যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা নিয়ে দুই নেতা আলোচনা করেন। পাশাপাশি ট্রাম্প তার সাম্প্রতিক চীন সফর সম্পর্কেও নেতানিয়াহুকে অবহিত করেন। পুরো ফোনালাপে ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
ইসরায়েলের ‘চ্যানেল ১২’ জানিয়েছে, ইরানে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার মধ্যেই এই ফোনালাপটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্ভাব্য যেকোনো মার্কিন হামলার আগে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে একটি আগাম বার্তা পাওয়ার আশা করছে ইসরায়েল, যদিও এই হামলার সুনির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে তারা এখনো নিশ্চিত নয়।
সময়ের আলো/জেডি