বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম এবং বন্ডের মুনাফা বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ভারতীয় মুদ্রার ওপর। ইরান যুদ্ধের জেরে সৃষ্ট এই পরিস্থিতিতে ডলারের বিপরীতে রুপির মান সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে গিয়ে ঠেকেছে।
অপরিশোধিত তেল আমদানিতে বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ দেশ ভারতের চলমান অর্থনৈতিক সংকটকে মুদ্রার এই নজিরবিহীন পতন আরও উসকে দিল।
সোমবার (১৮ মে) মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মান প্রায় ০.৩ শতাংশ কমে ৯৬.২২৭৫ রুপি হয়েছে। এর আগে রুপির সর্বনিম্ন দর ছিল ৯৬.১৩৫০। এর মধ্য দিয়ে ২০২৬ সালে এশিয়ার সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রা হিসেবে টানা পাঁচ কার্যদিবস ধরে রেকর্ড পতনের ধারা বজায় রাখল রুপি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক— রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) বাজারে ডলার বিক্রি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা না করলে এই বিপর্যয় আরও বড় হতে পারত। রুপির পতন ঠেকাতে এবং বিদেশি মুদ্রার তহবিল সুরক্ষায় দেশটির নীতিনির্ধারকরা ইতোমধ্যে রুপা আমদানির ওপর বিশেষ কড়াকড়িসহ কিছু নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত রুপির অবমূল্যায়ন হয়েছে প্রায় ৫.৫ শতাংশ।
রুপির এই দরপতন নিয়ে বিওএফএ গ্লোবাল রিসার্চ এক প্রতিবেদনে জানায়, বিশ্ববাজারে তেলের চড়া দাম দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কায় তারা রুপির ভবিষ্যৎ মান পুনর্নির্ধারণ করেছে। নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রতি ডলারের বিপরীতে রুপির মান ৯৬ এবং বছরের শেষ নাগাদ তা ৯৮ রুপিতে পৌঁছাতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গত মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ভারতের শেয়ার ও বন্ড বাজার থেকে প্রায় ২৩.৫ বিলিয়ন ডলার তুলে নিয়েছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ড্রোন হামলার পর ইরান যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক আলোচনা থমকে গেছে। এর ফলে টোকিও থেকে নিউ ইয়র্ক— সব দেশের পুঁজিবাজার ও বন্ডে ধস নেমেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতার ধাক্কা লেগেছে ভারতের ঘরোয়া বাজারেও।
সময়ের আলো/জেডি