শেরপুরের শ্রীবরদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দু’পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এক যুবক নিহত এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন। সোমবার (১৮ মে) সকালে শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার খড়িয়াকাজিরচর ইউনিয়নের মাদারপুর গ্রামে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবকের নাম আশরাফুল ইসলাম (৩২), তিনি ওই গ্রামের মৃত কালু মিয়ার ছেলে। এই সংঘাতের জেরে ক্ষুব্ধ জনতা স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে। শেরপুরের সহকারী পুলিশ সুপার আফসান আল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মাদারপুর গ্রামের ইউপি সদস্য নুরুল আমিনের সঙ্গে একই এলাকার আশরাফুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত শনিবার রাতে ইউপি সদস্য নুরুল আমিন তার দলবল নিয়ে আশরাফুলের বাড়িতে প্রথম দফা হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেন।
ওই ঘটনার পর রোববার দুপুরে আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে নুরুল আমিন মেম্বারসহ ১১ জনকে আসামি করে শ্রীবরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। থানায় অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ক্ষিপ্ত হয়ে সোমবার সকালে মেম্বার ও তার লোকজন রামদা এবং লাঠিসোটা নিয়ে পুনরায় আশরাফুলের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালালে দুই পক্ষের মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষ বেধে যায়।
সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে আশরাফুল ইসলামসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত শেরপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশরাফুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ছাড়া নিহতের ভাই মাহা আলম ও হাজেরাসহ আহত অন্য ১২ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শেরপুর জেলা হাসপাতাল এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা মাদারপুর গ্রামে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য নুরুল আমিনের বাড়িতে পাল্টা হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে শ্রীবরদী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
সহকারী পুলিশ সুপার আফসান আল আলম জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ইউপি সদস্য নুরুল আমিন ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে।
সময়ের আলো/টিএইচ