দেশের ভোক্তা পর্যায়ে আবারও বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত জ্বালানি ফার্নেস অয়েলের দাম। নতুন দফায় প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের দাম ১১৩ টাকা ৫৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন এই মূল্যহার ঘোষণা করেছে। বিইআরসি জানিয়েছে, আজ সোমবার মধ্যরাত থেকেই নতুন এই দাম সারা দেশে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে।
জ্বালানি খাতের এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে এখন থেকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, শিল্প কারখানা এবং অন্যান্য সাধারণ গ্রাহকদের বেশি দামে এই জ্বালানি কিনতে হবে।
বিপিসির সরবরাহ করা ফার্নেস অয়েলের দাম লিটার প্রতি আগের ৯৪ টাকা ৬৯ পয়সা থেকে একলাফে ১৮ টাকা ৮৫ পয়সা বাড়িয়ে ১১৩ টাকা ৫৪ পয়সা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। আকস্মিক এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি শিল্প কারখানার উৎপাদন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন জানিয়েছে, গত ২২ ফেব্রুয়ারি জারি করা বিইআরসি আদেশ নম্বর: ২০২৬/০২ এর অনুচ্ছেদ ৯.২ এর নির্দেশনা অনুযায়ী এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। মূলত গত ১৩ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ১২ মে ২০২৬ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে প্রকাশিত ফার্নেস অয়েলের ‘প্লাটস রেট’-এর গড় এবং চলতি মে ২০২৬ মাসে আমদানি করা ক্রুড অয়েলের এফওবি (FOB) মূল্যের ওপর ভিত্তি করে এই নতুন দাম হিসাব করা হয়েছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩ এর ধারা ২২(ঘ) ও ৩৪ এ প্রদত্ত বিশেষ দায়িত্ব ও ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সরবরাহ করা ফার্নেস অয়েলের এই নতুন মূল্যহার চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করেছে কমিশন। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই দেশের বাজারে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সময়ের আলো/টিএইচ