ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে হামলা চালাতে পারে বলে জানিয়েছেন কাতারের দোহা ইনস্টিটিউট অব গ্র্যাজুয়েট স্টাডিসের মিডিয়া স্টাডিসের প্রফেরস মোহাম্মদ এলমাসরি। সোমবার সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আবারও যুদ্ধ শুরু করবে কারণ ট্রাম্পের কানের কাছে রয়েছেন অনেক মানুষ। যারা তাকে বিভিন্ন কথা বলছেন। এর মধ্যে আছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্প সরকারের মধ্যে থাকা কট্টরপন্থিরা। ট্রাম্পের এ হুমকির পর বুথে বুথে গিয়ে অস্ত্রের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন সাধারণ ইরানিরা।
সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী ইরানের রাজধানী তেহরানে রাত নামলেই হাজার হাজার ইরানি নিয়মিত রাস্তায় নেমে আসেন। যোগ দেন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত সমাবেশে। যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সমর্থকদের সংগঠিত করাই এ সমাবেশের উদ্দেশ্য। নারী-পুরুষ এমনকি কিশোররাও সমাবেশে যোগ দিয়ে অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।
এলমাসরি বলেছেন, ইরানের কাছ থেকে ট্রাম্প যে ধরনের আত্মসমর্পণ চেয়েছিলেন তিনি সেটি পাননি। এ ছাড়া ইরানিদের কাছ থেকে তিনি যা প্রত্যাশা করেছিলেন তাও পাননি। এ ছাড়া ট্রাম্প আশা করেছিলেন ইরানের সঙ্গে তাদের আলোচনা ভিন্নভাবে হবে। এর সঙ্গে চীন সফরে এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের সময়ও তিনি ইরান নিয়ে উচ্চ আশা করেছিলেন।
দোহাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের এ প্রফেসর আরও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ইরান যুদ্ধ ট্রাম্পের জন্য সত্যিকার একটি বিপর্যয়। যদি তিনি বিজ্ঞ হন তা হলে যুদ্ধ তার এখানেই শেষ করা উচিত। কিন্তু তিনি তা করবেন না। ট্রাম্প বর্তমান অবস্থা থেকে পিছিয়ে দেশের নাগরিকদের কাছে যুদ্ধ জয়ের ঘোষণা নিয়ে যেতে পারবেন না।
এমন উত্তেজনাময় অবস্থায় স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে এ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ। ইরানি আলোচকদের একটি কাছের সূত্রের বরাতে বার্তাসংস্থাটি বলেছে, ইরান ১৪ দফার নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এই প্রস্তাবের প্রধান লক্ষ্য হলো যুদ্ধ বন্ধ করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাস অর্জন করা।
বর্তমানে ইরানে অবস্থান করছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কোনো ঘোষণা দিয়েই তিনি দেশটির রাজধানী তেহরানে যান। আজ তৃতীয় দিনের মতো তার সফরের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর মধ্যে জানা গেল, ইরান মার্কিনিদের কাছে নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে।
সৌদি আরবে ৮ হাজার সেনা, এক ডজনের বেশি যুদ্ধবিমান ও একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরাইলের বিরুদ্ধে যখন ইরানের যুদ্ধ চলছিল তখন সেনা ও বিমান মোতায়েন করে ইসলামাবাদ। সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
তারা বলেছে, যদিও পাকিস্তান যুদ্ধে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে। তা সত্ত্বেও সৌদিতে ওই সময় নিজেদের সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, যুদ্ধ করার সক্ষম পাকিস্তানের এসব সেনাদের মোতায়েনের উদ্দেশ্য হলো সৌদি যদি পরবর্তী আরও কোনো হামলার শিকার হয় তা হলে পাকিস্তানি সেনারা সৌদির সেনাদের সহায়তা করবেন।
গত বছর পাকিস্তান ও সৌদি আরব নিজেদের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি করে। এ চুক্তিতে রয়েছে যদি সৌদি বা পাকিস্তান অন্য কোনো দেশের আক্রমণের শিকার হয় তা হলে দুই দেশই অন্য দেশকে সাহায্যে এগিয়ে যাবে। পাকিস্তান-সৌদির মধ্যে হওয়া চুক্তিটির বিস্তারিত এখনও গোপন রাখা হয়েছে।
এদিকে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো ইরানের সংশোধিত প্রস্তাবটি ফাঁস হয়েছে। যা সংগ্রহ করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া। সোমবার তারা কয়েকটি প্রস্তাব প্রকাশ করেছে। আল-আরাবিয়া জানিয়েছে, ফাঁস হওয়া প্রস্তাবে দেখা গেছে ইরান শর্তসাপেক্ষে তাদের সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় পাঠাতে রাজি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, ইরানের ইউরেনিয়াম তাদের কাছে নিয়ে আসা হবে। তবে তেহরান জানিয়েছে, সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্র নয়, রাশিয়ার কাছে পাঠানো হবে। কিন্তু এতে থাকবে শর্ত। এ ছাড়া ইরান প্রস্তাব দিয়েছে তারা লম্বা একটি সময়ের জন্য তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত রাখবে। কিন্তু স্থায়ীভাবে কার্যক্রম বন্ধ করবে না।
যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, ইরানকে তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম পুরোপুরি বাদ দিতে হবে। সংশোধিত প্রস্তাবে ইরান আরও বলেছে তারা যুক্তরাষ্ট্রের থেকে কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ নেবে না। এর বদলে অর্থনৈতিক ছাড় চায়। ইরানি আলোচকদের একটি কাছের সূত্রের বরাতে বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ বলেছে, ইরান ১৪ দফার নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এই প্রস্তাবের প্রধান লক্ষ্য হলো যুদ্ধ বন্ধ করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাস অর্জন করা।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি কোনো চুক্তিতে তাড়াতাড়ি রাজি না হয়, তা হলে চরম পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ইরানের জন্য সময় তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে আসছে, তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। না হলে ইরানে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।
ইসরাইলি সংবাদ মাধ্যম টাইমস অব ইসরাইলের একটি প্রতিবেদনে অনুযায়ী ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলার পরেই ট্রাম্পের এই হুমকি সামনে এলো। এর আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, যুদ্ধ অবসানে ইরান কোনো চুক্তিতে রাজি না হলে ইরানের পুরো সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়া হবে। কয়েক দিন আগেই ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধবিরতি এখন ‘মুমূর্ষু অবস্থায়’ রয়েছে।
আরবিএন