ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ পাকিস্তান ও সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা চুক্তিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। সৌদি আরবের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ হিসেবে পাকিস্তান দেশটিতে ৮,০০০ সেনা, একটি স্কোয়াড্রন যুদ্ধবিমান এবং একটি চীনা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন এপ্রিলের শুরুতে শুরু হয়।
পাকিস্তান প্রায় ১৬টি যুদ্ধবিমান নিয়ে একটি স্কোয়াড্রন পাঠিয়েছে, যার বেশিরভাগই জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান। এই বিমানগুলো পাকিস্তান ও চীন যৌথভাবে তৈরি করেছে। এছাড়া পাকিস্তান একটি এইচকিউ-৯ চীনা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও মোতায়েন করেছে।
সৌদি আরবে এখন চীনের আধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থাও ব্যবহার করা হচ্ছে, আবার একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও চালু রয়েছে। দেশটির কাছে বর্তমানে প্যাট্রিয়ট ও থাড নামের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আছে। এছাড়া, উপসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে সৌদি আরবের কাছেই সবচেয়ে বেশি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মজুত রয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা চুক্তি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কাতারের দোহায় হামাসের প্রতিনিধিদের ওপর ইসরায়েলের হামলার পর এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশের দিকে হাজার হাজার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। যুদ্ধের শুরুতে কিছু সৌদি বিশ্লেষক বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির কারণে সৌদি আরব এখন পাকিস্তানের ‘পারমাণবিক সুরক্ষা ছাতার’ আওতায় রয়েছে।
তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে জানান, এ ধরনের মন্তব্য নিয়ে পাকিস্তান সতর্ক হয়ে পড়ে এবং সৌদি আরবের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করে।
পাকিস্তানের সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন দেখায় যে ইসলামাবাদ সৌদি আরবের নিরাপত্তা উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এই চুক্তির আওতায় সৌদি সীমান্ত রক্ষায় প্রায় ৮০ হাজার পাকিস্তানি সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
চুক্তির আওতায় পাকিস্তানের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের বিষয়ও রয়েছে। তবে রয়টার্স নিশ্চিত করতে পারেনি, সেগুলো ইতোমধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছেছে কি না।
এদিকে, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরবে প্রবেশের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো লোহিত সাগরের বাব এল-মান্দেব প্রণালী, যেখানে আগে হুতি বিদ্রোহীরা জাহাজে হামলা চালিয়েছিল।
সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে বহু পুরোনো নিরাপত্তা সম্পর্ক রয়েছে। ইরানকে ঘিরে বর্তমান উত্তেজনার কারণে সেই সম্পর্ক আবারও গুরুত্ব পাচ্ছে। গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করে পাকিস্তান।
সৌদি আরব সেই উদ্যোগকে সমর্থন দেয়। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত পাকিস্তানকে ৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তা দেয়। পরে সৌদি আরবও পাকিস্তানকে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা দেয়, যা দেশটির অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া সৌদি আরব ও পাকিস্তান তাদের নিরাপত্তা সহযোগিতায় তুরস্ককে যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা করেছে। আঞ্চলিক প্রভাব বাড়াতে সৌদি আরব কিছু ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অস্ত্র ও সামরিক সহযোগিতার ওপর আরও বেশি নির্ভর করছে, যাতে কয়েকটি আঞ্চলিক পক্ষকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রভাব থেকে দূরে আনা যায়।
এপ্রিলে মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় সরকারকে অস্ত্র সরবরাহ করেছে, যেটি সামরিক নেতা খলিফা হাফতারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পাঁচটি কার্গো বিমানের মাধ্যমে ওই অস্ত্র পাঠানো হয়েছিল।
/ইউএমএইচ