ইজিপিপি প্রকল্পে ভেকুর থাবা: হতদরিদ্রদের কাজ ‘গিলে খাচ্ছে’ এক্সকেভেটর

কায়সার রহমান রোমেল, গাইবান্ধা

সারাদেশ

সরকারের ‘অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি’ (ইজিপিপি) এর আওতায় বরাদ্দ পাওয়া খাল খননের কাজে হতদরিদ্র শ্রমিকদের বাদ দিয়ে ব্যবহার করা

2026-05-19T17:37:38+00:00
2026-05-19T17:37:38+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
ইজিপিপি প্রকল্পে ভেকুর থাবা: হতদরিদ্রদের কাজ ‘গিলে খাচ্ছে’ এক্সকেভেটর
কায়সার রহমান রোমেল, গাইবান্ধা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৫:৩৭ পিএম 
ইজিপিপি প্রকল্পে ভেকুর থাবা। ছবি : সময়ের আলো
সরকারের ‘অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি’ (ইজিপিপি) এর আওতায় বরাদ্দ পাওয়া খাল খননের কাজে হতদরিদ্র শ্রমিকদের বাদ দিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে এক্সকেভেটর বা ভেকু। গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নে চলমান এ প্রকল্পে নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। এতে সরকারের মূল উদ্দেশ্য- মৌসুমি বেকারত্ব দূর করা ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ইজিপিপি কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নে একটি খাল পুনঃখননের কাজ অনুমোদন পায়। রাধাকৃষ্ণপুর ব্রিজ থেকে জোতকালিকা প্রসাদ চৌধুরি হয়ে কলেজ রোড, প্রফেসর কলোনি ব্রিজ পর্যন্ত বিস্তৃত এ খালটি পুনরুদ্ধারে বরাদ্দ রাখা হয় প্রায় ১৮ লাখ টাকা। গত ১৮ মে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে কাজটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।

ইজিপিপির বাস্তবায়ন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এ কর্মসূচির মূল ভিত্তি হলো শ্রম-নির্ভরতা। ভারী যন্ত্রপাতির পরিবর্তে স্থানীয় হতদরিদ্র ও কর্মহীন মানুষের হাতের শ্রম দিয়ে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের কথা স্পষ্টভাবে বলা আছে নীতিমালায়। একই সঙ্গে প্রকল্পের কাজ শুরুর আগে নির্মাণ স্থানে প্রকল্পের তথ্যসম্বলিত সাইনবোর্ড স্থাপন বাধ্যতামূলক।

কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, বাস্তবচিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন; খাল খননের পুরো কাজটিই পরিচালিত হচ্ছে এক্সকেভেটর দিয়ে। কোনো শ্রমিক নেই, নেই কোনো সাইনবোর্ডও। ফলে দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থ কার্যত যন্ত্রের পেটে চলে যাচ্ছে।

এলাকার একাধিক দিনমজুর ও হতদরিদ্র শ্রমিক জানান, এ ধরনের প্রকল্পে কাজ পাওয়ার আশায় তারা অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু মেশিন দিয়ে কাজ শুরু হওয়ায় তারা সম্পূর্ণ বঞ্চিত হয়েছেন। ‘আমরা গরিব মানুষ, এই কাজগুলো না পেলে সংসার চলে না’, বলেন স্থানীয় এক শ্রমিক।

এ বিষয়ে সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. রিয়াজুল ইসলাম দাবি করেন, খাল খননে এক্সকেভেটর ও শ্রমিক-উভয় পদ্ধতিতে কাজ করার বিধান রয়েছে। তবে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি। গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল করিম বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা উচিত।

প্রকল্পে সাইনবোর্ড না থাকায় এলাকাবাসী জানতেই পারছেন না কোন কাজে কত টাকা বরাদ্দ, কে বাস্তবায়ন করছে, প্রকল্পের মেয়াদ কতদিন। এটি সরকারের তথ্য প্রকাশ ও জবাবদিহির নীতিমালারও লঙ্ঘন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

উন্নয়ন গবেষকরা বলছেন, ইজিপিপির মতো কর্মসূচিগুলো কেবল অবকাঠামো নির্মাণের জন্য নয়, এগুলো একই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষার হাতিয়ার। যন্ত্র দিয়ে কাজ করালে অবকাঠামো হয়ত তৈরি হয়, কিন্তু দরিদ্র মানুষের হাতে যায় না একটি টাকাও- যা কর্মসূচির মূল দর্শনকেই ধ্বংস করে দেয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, প্রকল্পে শ্রমিকদের যথাযথ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং সাইনবোর্ড স্থাপনসহ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উচিত চলমান প্রকল্পগুলোতে নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা।

আরবিএন 



  বিষয়:   ইজিপিপি  এক্সকেভেটর  ভেকু  গাইবান্ধা 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: