জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) সাম্প্রতিক ধর্ষণচেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও ভিকটিমের ন্যায়বিচারের দাবিতে নতুন একটি শিক্ষার্থীভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে 'নিরাপদ ক্যাম্পাস আন্দোলন' নামে এই প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ ঘটে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা অনুষদে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভার মাধ্যমে।
আয়োজকদের দাবি, সাম্প্রতিক ঘটনায় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাহীনতা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভিকটিমের ন্যায়বিচার এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলন গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হলেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও বিভাজনের কারণে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।
এ প্রেক্ষাপটে দলীয় ব্যানার ও রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডার বাইরে থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি স্বচ্ছ ও সমন্বিত আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন উপস্থিত শিক্ষার্থীরা। সভায় বলা হয়, ‘শুধু ভিকটিমের ন্যায়বিচার ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই আমরা কাজ করব।’
সভা থেকে বিভিন্ন অনুষদের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি প্রাথমিক প্রতিনিধি দল গঠন করা হয়। পরবর্তীতে অংশগ্রহণের ভিত্তিতে নারী ও পুরুষ উভয় শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রতিনিধি কাঠামো আরও সম্প্রসারণ করা হবে বলেও জানানো হয়। একই সঙ্গে যে কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের শিক্ষার্থীরা নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় স্বচ্ছভাবে উল্লেখ করে দাবিগুলোর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশের মাধ্যমে এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত হতে পারবেন বলেও সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রাথমিক প্রতিনিধিরা হলেন, সমাজবিজ্ঞান অনুষদে আফিয়া ইবনাত সামিহা (অর্থনীতি বিভাগ, ৫৩ ব্যাচ), নতুন কলা অনুষদে মুখলাতুল জিনান তৃষা (প্রত্নতত্ত্ব
বিভাগ ৫১ ব্যাচ), আইন ও বিচার অনুষদে জাইবা জাফরিন (আইন ও বিচার বিভা ৫১ ব্যাচ), ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে সুমাইয়া ইসলাম সামিয়া (অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগ, ৫১ ব্যাচ), জীববিজ্ঞান অনুষদে মীম খানম (উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ ৫১ ব্যাচ)।
সভা থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস নিরাপত্তা ও বিচার নিশ্চিতের লক্ষ্যে ছয় দফা দাবি ঘোষণা করা হয়।
প্রথম দাবিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীদের গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে তদন্ত কমিটির অগ্রগতি প্রতিবেদন আগামী ২১ মের মধ্যে প্রকাশ এবং প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপ নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থীদের জানানোর দাবি তোলা হয়।
দ্বিতীয় দাবিতে ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারের কথা উল্লেখ করে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার শূন্য পদ দ্রুত পূরণ, নারী নিরাপত্তারক্ষীসহ পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ এবং নিরাপত্তা অবক্ষয়ের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয়।
তৃতীয় দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা নির্ধারণ ও প্রাচীর নির্মাণের টেন্ডার দ্রুত প্রকাশ। একই সঙ্গে সিঅ্যান্ডবি থেকে গেরুয়া পর্যন্ত প্রস্তাবিত সড়ক নির্মাণ কাজের অগ্রগতি এবং মেয়েদের হলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ ব্যবস্থার আপডেট প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়।
চতুর্থ দাবিতে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণে পাসকার্ড ব্যবস্থা চালু, বিশেষ দিনে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের নীতিমালা প্রকাশ এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি তোলা হয়।
পঞ্চম দাবিতে 'কুইক রেসপন্স টিম' গঠন ও এর কার্যক্রম প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়।
ষষ্ঠ দাবিতে সাম্প্রতিক ঘটনার ভিকটিমসহ সব ভিকটিমকে আইনগত ও প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
সভা শেষে শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রতিটি দাবির দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।
সময়ের আলো/জোই