যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোর একটি মসজিদে বন্দুক হামলায় নিহত নিরাপত্তাকর্মী আমিন আবদুল্লাহকে ‘নায়ক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়। কর্মকর্তাদের মতে, তার সাহসী পদক্ষেপের কারণেই হামলায় আরও বড় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) সান দিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে নিরাপত্তাকর্মী আমিন আবদুল্লাহসহ তিন মুসল্লি নিহত হন। পরে হামলায় জড়িত দুই কিশোরও আত্মহত্যা করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সান দিয়েগো পুলিশের প্রধান স্কট ওয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তার কাজ নিঃসন্দেহে বীরত্বপূর্ণ ছিল। তিনি অনেক মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন।
আমিন আবদুল্লাহ ছিলেন আট সন্তানের বাবা। স্থানীয় মুসলিম সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের মুখপাত্র তাজহিন নিজাম বিবিসিকে বলেন, আমিন সবাইকে হাসিমুখে স্বাগত জানাতেন। শিশু থেকে বয়স্ক— সবাইকে তিনি আপন করে নিতেন। তিনি উজ্জ্বল মানুষ ও সত্যিকারের নায়ক ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি মসজিদে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকেই নিজের দায়িত্ব মনে করতেন।
হামলায় নিহত অন্য দুইজন হলেন মনসুর কাজিহা ও নাদের আওয়াদ। ইসলামিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাজিহা মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণের কাজে যুক্ত ছিলেন এবং আওয়াদের স্ত্রী সেখানকার স্কুলে শিক্ষকতা করতেন।
পুলিশ জানায়, হামলার আগে এক কিশোরের মা পুলিশকে ফোন করে জানান, তার ছেলে এক বন্ধুকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছে এবং আত্মঘাতী হতে পারে। কয়েক ঘণ্টা পর মসজিদের বাইরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনজনকে পাওয়া যায়। পরে কাছাকাছি একটি গাড়ি থেকে ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী দুই সন্দেহভাজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ‘বিদ্বেষমূলক অপরাধ’ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের মতে, হামলায় ঘৃণামূলক বক্তব্য ও উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
/ইউএমএইচ