রামিসা হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল পুলিশ

সময়ের আলো ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তার (৭) হত্যাকাণ্ডে ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, মূল

2026-05-20T01:36:23+00:00
2026-05-20T01:55:31+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
রামিসা হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল পুলিশ
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ১:৩৬ এএম  আপডেট: ২০.০৫.২০২৬ ১:৫৫ এএম
রামিসা আক্তার । ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তার (৭) হত্যাকাণ্ডে ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, মূল অভিযুক্তকে পালাতে সহায়তা করতেই ফ্ল্যাটের দরজা খুলতে দেরি করেন তার স্ত্রী।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত মো. জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানাকে পালানোর সুযোগ করে দিতে স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘ সময় ফ্ল্যাটের দরজা বন্ধ রাখেন। জাকির জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই তিনি দরজা খুলেছিলেন।

ঘটনার মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যেই জাকির ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, জাকির পেশায় রিকশা মেকানিক। তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, সে বিকৃত যৌনরুচির অধিকারী।

তদন্তে জানা গেছে, রামিসার পরিবার দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ওই ভবনে বসবাস করলেও অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে বিপরীত পাশের ফ্ল্যাটে ভাড়া ওঠেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খুঁজতে গিয়ে তার মা অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির স্যান্ডেল দেখতে পান।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রামিসার মা দরজায় নক করার সময়ই ফ্ল্যাটের ভেতরে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছিল। জাকির যাতে সহজে পালাতে পারে, সে উদ্দেশ্যেই স্বপ্না দরজা খুলতে দেরি করেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে জাকির পালিয়ে গেলে তিনি দরজা খোলেন। এ ঘটনায় স্বপ্নার সরাসরি সহযোগিতার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, প্রতিবেশীর বিকৃত যৌনলালসার শিকার হয়েছিল শিশুটি। নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়ার আশঙ্কায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে আলামত নষ্ট ও মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে শিশুটির মাথা ও হাত বিচ্ছিন্ন করা হয়। তবে ধর্ষণের বিষয়টি ময়নাতদন্ত ও রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার পর স্বপ্নাকে ফ্ল্যাট থেকেই আটক করা হয়। তবে জাকির জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে, নারায়ণগঞ্জের একটি বিকাশের দোকানে বন্ধুর পাঠানো টাকা তুলতে গেছে সে। তাৎক্ষণিক অভিযানে স্থানীয় পুলিশ ও দোকানদারের সহায়তায় ওই দোকান থেকেই জাকিরকে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর ওই বাসার খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয় বিচ্ছিন্ন মাথা। নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

/এসএকে


  বিষয়:   রামিসা  হত্যাকাণ্ড  চাঞ্চল্যকর  তথ্য  পুলিশ 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: