আজ বিশ্ব মৌমাছি দিবস

সময়ের আলো ডেস্ক

বিবিধ

আজ বিশ্ব মৌমাছি দিবস। ২০১৭ সালে জাতিসংঘ ২০ মে তারিখকে বিশ্ব মৌমাছি দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ২০১৮ সালের ২০ মে

2026-05-20T09:22:52+00:00
2026-05-20T09:22:52+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
বিবিধ
আজ বিশ্ব মৌমাছি দিবস
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ৯:২২ এএম   (ভিজিট : ২৫)
সংগৃহীত ছবি
আজ বিশ্ব মৌমাছি দিবস। ২০১৭ সালে জাতিসংঘ ২০ মে তারিখকে বিশ্ব মৌমাছি দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ২০১৮ সালের ২০ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথমবার পালিত হয় বিশ্ব মৌমাছি দিবস।

আধুনিক মৌমাছি পালনের জনক হিসেবে পরিচিত স্লোভেনীয় মৌমাছি পালক অ্যান্টন জনসার জন্মদিন ১৭৩৪ সালের ২০ মে। তার এই জন্মতারিখকে স্মরণীয় করে রাখতেই এই দিনটি নির্ধারণ করা হয়।
 
মৌমাছি ও অন্যান্য পরাগায়নকারী প্রাণীর গুরুত্ব এবং বাস্তুতন্ত্রে তাদের অবদান সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বাড়ানোই এ দিবসের প্রধান উদ্দেশ্য।

মৌমাছি প্রকৃতির এক অত্যন্ত উপকারী ও পরিশ্রমী পতঙ্গ। মধু, মোম এবং ফুলের পরাগায়ণের মাধ্যমে পরিবেশ ও কৃষিতে এদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পৃথিবীর প্রায় সব অঞ্চলে মৌমাছি দেখা যায়, শুধু অ্যান্টার্কটিকায় এদের অস্তিত্ব নেই। বাংলাদেশে সাধারণত যে মৌমাছি বেশি দেখা যায়, তার বৈজ্ঞানিক নাম Apis indica।


মৌমাছি সারাদিন ফুল থেকে ফুলে উড়ে মধুরস ও পরাগরেণু সংগ্রহ করে। তাদের কর্মব্যস্ততা, শৃঙ্খলা ও পরিশ্রম মানুষের জন্য অনুকরণীয়। ছোট্ট এই পতঙ্গটি শুধু মধুই তৈরি করে না, বরং অত্যন্ত নিখুঁতভাবে মৌচাক নির্মাণের মাধ্যমেও অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দেয়।

ফুলে বিচরণ করার সময় মৌমাছির দেহে পরাগরেণু লেগে যায়। পরে অন্য ফুলে বসলে সেই পরাগরেণু স্থানান্তরিত হয়ে পরাগায়ণ সম্পন্ন হয়। এতে ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় এবং কৃষিজ ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। তাই মৌমাছিকে প্রকৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরাগবাহক বলা হয়।

বাংলাদেশের আবহাওয়ায় ছোট আকৃতির মৌমাছিরা সাধারণত গাছের কোটর, দেয়ালের ফাঁক কিংবা বন্ধ জায়গায় বাসা তৈরি করে। তাদের উৎপাদিত মধু অত্যন্ত সুস্বাদু ও উন্নত মানের।


মৌমাছিরা দলবদ্ধভাবে একটি সমাজ গঠন করে বসবাস করে। একটি মৌচাকে সাধারণত তিন ধরনের মৌমাছি থাকে— রানি মৌমাছি, পুরুষ মৌমাছি এবং কর্মী মৌমাছি। রানি মৌমাছি ডিম পাড়ে, ড্রোন মৌমাছি রানির সঙ্গে মিলনে অংশ নেয় এবং কর্মী মৌমাছিরা মধু সংগ্রহ, চাক পরিষ্কার ও বাচ্চাদের যত্ন নেওয়ার কাজ করে। মৌচাক হলো মৌমাছির আবাসস্থল। এতে অসংখ্য ছোট ছোট ষড়ভুজাকৃতির প্রকোষ্ঠ থাকে। এসব প্রকোষ্ঠে মধু সংরক্ষণ করা হয় এবং ডিম, লার্ভা ও পিউপা রাখা হয়। মধু হলো এক ধরনের ঘন ও মিষ্টি প্রাকৃতিক তরল, যা মৌমাছি ফুলের নির্যাস থেকে তৈরি করে। ফুলের রস সংগ্রহ করে মৌমাছি শরীরের ভেতরে বিশেষ রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মধু তৈরি করে এবং পরে তা মৌচাকে জমা রাখে। মধু পুষ্টিকর ও ঔষধিগুণসম্পন্ন খাদ্য হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের সুন্দরবনের মধু স্বাদ, সুগন্ধ ও গুণগত মানের জন্য বিশেষভাবে বিখ্যাত।


মৌমাছিরা তাদের শরীরের বিশেষ গ্রন্থি থেকে মোম তৈরি করে। এই মোম ব্যবহার করে তারা মৌচাক নির্মাণ করে। মৌমাছির মোম থেকে মোমবাতি, প্রসাধনী ও বিভিন্ন শিল্পপণ্য তৈরি করা হয়।

মৌমাছির গুরুত্বের কারণে বিশ্বজুড়ে মৌমাছি দিবস পালন করা হয়। এদের সংরক্ষণ ও গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে এই দিবস বিশেষ ভূমিকা রাখে।

/মহু


  বিষয়:   মৌমাছি  মধু  মোম 


Loading...
Loading...
বিবিধ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: