খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে গ্রুপিং, অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যেই আটলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ ওঠে। তবে সরেজমিন অনুসন্ধান, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও জমির মালিকদের বক্তব্যে অভিযোগের ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে।
ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের মাগুরখালি রোড এলাকায় একটি বালির বেডকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সরকারি জমি দখল করে সেখানে বালির ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে এবং এর সঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দিন জড়িত।
তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট বালির ব্যবসার সঙ্গে চেয়ারম্যানের সরাসরি মালিকানার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ ওঠা জমিটি সরকারি নয়, বরং ব্যক্তিমালিকানাধীন রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তি বলে দাবি করেছেন জমির মালিকরা।
বালির বেডের ব্যবসায়ী রিয়াজুল ইসলাম জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বালির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এর আগে সাতক্ষীরার তালা উপজেলা ও ডুমুরিয়ার খর্নিয়া এলাকায়ও তিনি ব্যবসা পরিচালনা করেছেন। বর্তমানে আটলিয়া ইউনিয়নের মাগুরখালি রোড এলাকায় ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছেন বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে তার ব্যবসায়িক লেনদেন থাকলেও বালির বেডের মালিকানার সঙ্গে চেয়ারম্যানের কোনো সম্পর্ক নেই।
এদিকে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকরাও জানান, জমিটি সরকারি নয়। মৃত আবদুর খালেক শেখের ছেলে জাহান আলী শেখ বলেন, জমিটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি এবং চুক্তির ভিত্তিতে রিয়াজুল ইসলাম জমি ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছেন। একই তথ্য নিশ্চিত করেন জমির আরেক মালিক সুশান্ত কুমার বিশ্বাস।
অভিযোগ প্রসঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দিন বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় তার জনপ্রিয়তা ক্ষুণ্ন করার জন্য মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। যদি সরকারি জমি দখল বা অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার জানান, সরকারি জমি দখলের অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের এই পরিস্থিতিতে এখন নজর প্রশাসনের তদন্তের দিকে। তদন্তে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হলে এ বিতর্কের অবসান ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরবিএন