ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব দ্বন্দ্বে দলীয় নেতাকর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। শীর্ষ নেতাদের এই গ্রুপিংয়ের কারণে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে দলটির উভয় পক্ষই পৃথকভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক সাংগঠনিক কার্যক্রমে।
তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মী জানান, রাজাপুর-কাঁঠালিয়ায় দলের চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনতে এবং এই সংকট দ্রুত সমাধানে জেলা বিএনপির জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
গত ১৭ মে ‘জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নে বিএনপি সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ’ শীর্ষক লিফলেট বিতরণ ও আলোচনা সভাকে কেন্দ্র করে কাঁঠালিয়া উপজেলা বিএনপির এই কোন্দল পুরোপুরি প্রকাশ্যে আসে। ওই মূল অনুষ্ঠানে ঝালকাঠি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ হোসেন, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেনসহ জেলা শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামালের অনুসারী নেতারা জেলা নেতাদের উপস্থিতিকে তোয়াক্কা না করে পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করেন।
মূল অনুষ্ঠানের ব্যানারে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জালালুর রহমান আকনের নাম থাকলেও তিনি সেখানে উপস্থিত হননি। উল্টো তিনি উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে নিজস্ব নেতাকর্মীদের নিয়ে পৃথক আলোচনা সভা করেন। একই দিনে মাঠপর্যায়ে ছাত্রদলেরও দুটি পৃথক গ্রুপকে আলাদাভাবে মিছিল করতে দেখা গেছে।
দলীয় সূত্রমতে, বর্তমানে ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপি দুটি ধারায় বিভক্ত। যার এক অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল এবং অন্য অংশের নেতৃত্বে আছেন সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা গোলাম আযম সৈকত।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তৃণমূলের এক কর্মী আক্ষেপ করে বলেন, এখন ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। এই জটিল পরিস্থিতিতে বিএনপির সবার ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত ছিল। কিন্তু কিছু নেতা ব্যক্তিস্বার্থে দলের ভেতরে বিভাজন তৈরি করে সাধারণ কর্মীদের বিপদে ফেলছেন।
কোন্দলের বিষয়ে সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা গোলাম আজম সৈকত বলেন, বিএনপি এখন রাষ্ট্র পরিচালনার ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করছে। এই সময়ে দলের ভেতরের ঐক্য আরও বেশি জরুরি। কিন্তু ব্যক্তিস্বার্থ ও পদ-পদবির দ্বন্দ্বে তৃণমূলে যে বিভক্তি দেখা দিচ্ছে, তাতে সাধারণ নেতাকর্মী ও সমর্থকরা হতাশ হচ্ছেন। শীর্ষ নেতৃত্বের উচিত দ্রুত এই বিভাজন দূর করে সবাইকে এক কাতারে আনা।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার পর থেকেই কাঁঠালিয়ার তৃণমূল রাজনীতিতে এই নেতৃত্ব সংকট ও বিভক্তি তৈরি হয়।
সাধারণ কর্মীরা জানান, তারা কোনো প্রতিহিংসা বা গ্রুপিংয়ের রাজনীতি চান না। তাদের লক্ষ্য দলকে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করা। এই পরিস্থিতিতে তারা ঝালকাঠি জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দের দিকে তাকিয়ে আছেন, যাতে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত একটি সুষ্ঠু সমাধান আসবেন।
এ বিষয়ে রফিকুল ইসলাম জামালের অনুসারী ও কাঁঠালিয়া উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জালালুর রহমান আঁকন অভিযোগ করে বলেন, আমাকে না জানিয়ে মূল অনুষ্ঠানের ব্যানারে আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছে, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তা ছাড়া গোলাম আজম সৈকতের গ্রুপটি আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট এবং দলত্যাগী শাহজাহান ওমরের লোকদের নিয়ে রাজনীতি করছে।
এদিকে তৃণমূলের এত বড় বিভক্তি ও কোন্দলের বিষয়ে জানতে চাইলে ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত জবাবে বলেন, আমি এই বিষয়ে কিছুই অবগত নই।
সময়ের আলো/জোই