কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলায় ভূমিদস্যুদের দখলকৃত স্কুলের রাস্তা উদ্ধার না করে উল্টো ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে। নতুন রাস্তা নির্মাণের নামে জোরপূর্বক ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি থেকে গাছ কাটারও অভিযোগ উঠেছে ইউএনও মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে। লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ সঠিক সীমানা নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়ার এক মাস পরও তা বাস্তবায়ন করেননি ইউএনও।
স্থানীয় শিক্ষক রিয়াজ বীন রানু বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে আসার কোনো রাস্তা নেই। মানুষের বাড়ির ভেতর দিয়ে এবং আবাদি জমি মাড়িয়ে স্কুলে পৌঁছাতে হয়। অথচ স্কুলে আসার জন্য সুন্দর রাস্তা ছিল। করোনা মহামারি শেষে রাস্তাটি হাওয়া হয়ে যায়। পার্শ্ববর্তী আইনুল ইসলাম মোল্লা ও জাহাঙ্গীর স্কুলে আসার রাস্তা দখল করে নেন। বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এবং ইউএনও অফিসে অনেকবার জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল বারী বলেন, দুটি পরিবার অন্যায়ভাবে সরকারি খাসজমিসহ স্কুলের রাস্তা দখল করে নিয়েছে। ইউএনও তা উদ্ধার না করে উল্টো ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির ওপর রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। দখলদার আইনুল মোল্লার ছেলে মাইদুল ইসলাম ঢাকার দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তার ব্যাচমেট মাহমুদুল হাসানও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
ইউএনও মাহমুদুল হাসান ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার কার্যালয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। এ সময় চিলমারী উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসিম উদ্দিন বলেন, ইউএনও স্যার ঢাকায় মিটিংয়ে গেছেন।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, জমির মালিক রেজাউল করিম যে অভিযোগ দিয়েছেন তারই পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তের জন্য ইউএনওকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠির উত্তর দিয়েছেন কি না তা পরে জানাতে পারব। ইউএনও ঢাকায় মিটিংয়ে আছেন। হয়তো সে কারণে তিনি ফোন ধরতে পারছেন না।
ভুক্তভোগী জমির মালিক রেজাউল করিম বলেন, রেকর্ডিং সূত্রে আমি এই জমির মালিক। স্কুলের রাস্তা দখল হয়ে যাওয়ার পর থেকে তা উদ্ধারে অনেক চেষ্টা করেছি। ইউএনও প্রশাসনিকভাবে রাস্তা উদ্ধারে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো আমার রেকর্ডকৃত জমির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। তার নির্দেশে আমার জমির কয়েকটি বড় ইউক্যালিপটাস গাছ কাটা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করি। চিলমারী মডেল থানার সাব ইন্সপেক্টর বাবুল আহমেদ ঘটনা তদন্ত করে সত্যতা পান। সীমানা নিয়ে জটিলতা থাকায় মামলার আগে তিনি আমাকে সীমানা নির্ধারণের পরামর্শ দেন। কিন্তু ইউএনওর পক্ষপাতিত্ব এবং প্রভাব বিস্তারের কারণে সীমানা নির্ধারণ করা যাচ্ছে না।
চিলমারী মডেল থানার এসআই বাবুল আহমেদ বলেন, সরেজমিন গিয়ে জেনেছি ইউএনও স্যার বলেছেন স্কুলের রাস্তা করার জন্য গাছগুলো কাটতে। বিবাদী দাবি করছেন, তাদের সীমানায় গাছ থাকায় কাটা হয়েছে। বাদী রেজাউল করিমকে সীমানা নির্ধারণ করে নিতে বলা হয়েছে। সীমানা নির্ধারণ হওয়ার পর তার পক্ষে হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নের পূর্ব চর পাত্রখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র রাস্তাটি দখল হয়ে গেছে। স্কুলের রাস্তাসহ পাশের খাসজমি বন্দোবস্ত দেখিয়ে দখলে নিয়ে বসতবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন আওয়ামী লীগের উপজেলা শাখার সাবেক সহ-সভাপতি আইনুল হক মোল্লা, তার মেয়ে জামাই জাহাঙ্গীর আলম ও মেয়ে বিউটি বেগম।
অভিযোগ রয়েছে, ভূমিদস্যুদের কাছ থেকে স্কুলের রাস্তা উদ্ধার না করে রেজাউল করিমের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন ইউএনও। শুধু তাই নয়, এক ধরনের গায়ের জোরে গত ১৭ আগস্ট তার নির্দেশে জমি থেকে গাছ কেটে নেওয়া হয়। এসব গাছ কাটায় মানা হয়নি কোনো সরকারি বিধিবিধান। এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে জমির মালিক রেজাউল করিম কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে ২৪ আগস্ট লিখিত অভিযোগ করেন
অভিযোগের পর জেলা প্রশাসক জমির সীমানা নির্ধারণ ও বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গত ৩ সেপ্টেম্বর তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইউএনওকে চিঠি দেন। এরপর এক মাস পেরিয়ে গেলেও ইউএনও কোনো পদক্ষেপ নেননি।
সময়ের আলো/আতা