ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কোচিং করতে এসে নিখোঁজ হওয়ার ১৫ দিন পর টাঙ্গাইলের গোপালপুরের রাকিব হাসান জয়ের (১৮) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার একটি গ্রামের মাটির নিচ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার গলিত মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকার একটি তদন্তকারী দল।
জয় টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের দাদীর আটা গ্রামের খাদেমুল ইসলামের ছেলে। তিনি ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এ প্লাস পেয়ে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতির জন্য ঢাকার ফার্মগেট এলাকার একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর ফার্মগেট এলাকা থেকে নিখোঁজ হন জয়। এরপর অপরিচিত এক যুবক জয়ের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে তাঁর বাবার হোয়াটসঅ্যাপে চোখ-মুখ বাঁধা ও নির্যাতনের ছবি পাঠায়। এ সময় ১৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে টাকা না দিলে জয়কে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
ছেলেকে বাঁচানোর আশায় দরিদ্র কৃষক বাবা খাদেমুল ইসলাম ধারদেনা ও সুদে টাকা নিয়ে ১৩টি বিকাশ নম্বরে মোট পাঁচ লাখ টাকা পাঠান। টাকা পাওয়ার পর নম্বরগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর আর জয়ের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে ঢাকার শুক্রাবাদ এলাকা থেকে মামুন রহমান (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ছাতনাই ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামে জয়কে মাটিচাপা দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, প্রায় এক মাস আগে জয়ের সঙ্গে মামুনের পরিচয় হয়। পরে কোনো একটি বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে জয়কে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে মামুন তা নিজের গ্রামের বাড়ি ডিমলার বালাপাড়া গ্রামে নিয়ে মাটিচাপা দেন। এরপর ঢাকায় ফিরে জয়ের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পরে মামুনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার একটি তদন্তকারী দল মঙ্গলবার বালাপাড়া গ্রামে গিয়ে মাটির নিচ থেকে জয়ের মরদেহ উদ্ধার করে।
জয়ের বাবা খাদেমুল ইসলাম বলেন, ‘মুক্তিপণ দিয়েছিলাম ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায়। টাকা দিয়েও ছেলেকে জীবিত পেলাম না। আমি খুনির ফাঁসি চাই।’
জয়ের মা জোহুরা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত ফাঁসি চাই।’
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল আলম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। গ্রেফতার মামুনকে ঢাকার তদন্তকারী দলের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সময়ের আলো/এসএকে