বয়স কেবলই একটা সংখ্যা, আর ফর্ম চিরন্তন। ক্রিকেটীয় এই চিরন্তন সত্যকে আরও একবার প্রমাণ করলেন মুশফিকুর রহিম। দীর্ঘ দুই দশকের গৌরবময় ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে, সীমিত ওভারের ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও লাল বলের ক্রিকেটে তিনি এখনও বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ধ্রুবতারা। বিশ বছরের দীর্ঘ টেস্ট ক্যারিয়ারে যা কখনো করা হয়নি, ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ে সেটাই করে দেখালেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে এসে প্রথমবারের মতো টেস্ট সংস্করণে ‘সিরিজসেরা’র মুকুট মাথায় তুললেন ‘মি. ডিপেন্ডেবল’।
২০০৫ সালে সাদা পোশাকে অভিষেকের পর ১০২ টেস্টের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন মুশফিক, খেলেছেন দেশের ঐতিহাসিক শততম টেস্টও। তবে ক্রিকেটের এই ঐতিহ্যবাহী ফরম্যাটে সিরিজসেরার খেতাবটি এতদিন তার নামের পাশে যুক্ত হয়নি। অবশেষে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ব্যাট হাতে ছড়ি ঘুরিয়ে ঘুুচল সেই দীর্ঘ আক্ষেপ। ১টি সেঞ্চুরি ও ১টি হাফসেঞ্চুরিসহ রেকর্ড ২৫৩ রান করে দলের অবিস্মরণীয় জয়ে সবচেয়ে বড় ভরসার প্রতীক হয়ে ছিলেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের উত্থান আর মুশফিকের নাম একই সুতোয় গাঁথা। দেশের ইতিহাসের মোট ২৭টি টেস্ট জয়ের ২৫টিতেই মাঠের লড়াইয়ে ছিলেন তিনি। শুধু একাদশে থাকাই নয়, দলের জয় নিশ্চিত করতে ব্যাট হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বাংলাদেশের জয়ী ম্যাচগুলোতে প্রায় ৫৭ গড়ে তার সংগ্রহ ২০৮৭ রান, যার মধ্যে রয়েছে ৬টি সেঞ্চুরি ও ৮টি ফিফটির ঝলমলে রেকর্ড।
টেস্ট জয়ের নায়ক নির্বাচনেও সবার শীর্ষে মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশের জয়ী টেস্টগুলোতে সর্বোচ্চ ৭ বার ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ হয়েছেন তিনি। এই তালিকায় তার পরেই আছেন সাকিব আল হাসান (৫ বার), তামিম ইকবাল (৪ বার) ও মেহেদী হাসান মিরাজ (৪ বার)। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন সংস্করণ মিলিয়ে দেশের হয়ে ৪৮০ ম্যাচ ও ১৮৫টি সিরিজ খেলা মুশফিকের হাতে এটি সব মিলিয়ে সপ্তম সিরিজসেরার পুরস্কার। ওয়ানডেতে ৬ বার এই গৌরব অর্জন করলেও এবার ক্রিকেটের মূল মঞ্চেও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের রাজমুকুট পরলেন এই লিভিং লিজেন্ড।
সময়ের আলো/আআ