যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নিতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করেছে পাকিস্তান। এদিকে ইরান বলেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি কিছুদিন অপেক্ষা করতে পারেন, তবে প্রয়োজন হলে আবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপও নিতে পারেন।
প্রায় ছয় সপ্তাহ আগে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এখনো শান্তি আলোচনা খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি। এর মধ্যে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি ও চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তেহরান সফরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এরইমধ্যে ইরান সফর করেছেন এবং দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান চেষ্টা করছে যেন দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান দ্রুত হয় এবং আলোচনা এগিয়ে যায়। তবে ট্রাম্পের ধৈর্য কমে আসা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
ট্রাম্প আবারও বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি সমঝোতা না হয় তাহলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড সতর্ক করে বলেছে, যদি আবার হামলা হয় তাহলে পরিস্থিতি পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের যুদ্ধের দিকে যেতে পারে।
ইরান সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রকে একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে কিছু পুরনো শর্ত আবারও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে— হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার।
বিশ্ব তেলের বড় অংশ পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় অচল হয়ে গেছে। ইরান সেখানে নিয়ন্ত্রিত সামুদ্রিক এলাকা ঘোষণা করেছে এবং বলেছে, শুধু অনুমোদিত দেশগুলোই সেখানে চলাচল করতে পারবে।
এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব পড়ছে, কারণ এই পথ দিয়ে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়।
খবরে আরও বলা হয়েছে, কিছু আন্তর্জাতিক ট্যাংকার ইরানের অনুমতিতে ওই এলাকা দিয়ে চলাচল করছে, তবে আগের তুলনায় জাহাজ চলাচল অনেক কমে গেছে।
যুদ্ধ চলাকালে ইরান, ইসরায়েল এবং লেবাননে বড় ধরনের সহিংসতা ও প্রাণহানি হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তাদের লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সামরিক সক্ষমতা সীমিত করা এবং আঞ্চলিক মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ আনা।
তবে ইরান এখনো তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধরে রেখেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা কিছু ড্রোন উৎপাদন আবার শুরু করেছে বলেও জানা গেছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ এবং শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।
/ইউএমএইচ