ইরান কর্তৃক কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করার পর সেখানে নৌচলাচল নিরাপদ করার নামে সামরিক জোট ন্যাটোর যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য ভূমিকা বা হস্তক্ষেপের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ফ্রান্স।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) প্যারিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র প্যাসকেল কনফাভ্রেক্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান বা হস্তক্ষেপ করার কোনো আইনি ম্যান্ডেট ন্যাটোর নেই, তাই ফ্রান্স হরমুজ প্রণালীতে ন্যাটোর জড়িয়ে পড়ার তীব্র বিরোধিতা করছে।
ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র প্যাসকেল কনফাভ্রেক্স বলেন, ‘আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট এবং সুসংগত। উত্তর আটলান্টিক চুক্তিটি কেবল উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের জন্যই প্রযোজ্য। মধ্যপ্রাচ্য এবং হরমুজ প্রণালীর মতো বিষয়ের জন্য এটি কোনো সঠিক জোট নয় এবং এটি তাদের কাজের পরিধির মধ্যেও পড়ে না।’
এর মাত্র দুই দিন আগে ন্যাটোর সুপ্রিম অ্যালাইড কমান্ডার ইউরোপ জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ বলেছিলেন যে হরমুজ প্রণালীতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রচেষ্টায় ন্যাটো অবদান রাখার বিষয়টি ‘বিবেচনা’ করছে, যদিও তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে এই বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত পরিকল্পনা করা হয়নি।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ‘শান্তিপূর্ণভাবে’ সুরক্ষিত রাখতে ফ্রান্স একটি বহুজাতিক মিশনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বলে প্যারিসের পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে একই সংবাদ সম্মেলনে লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহ—উভয় পক্ষের দ্বারাই চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মুখপাত্র প্যাসকেল কনফাভ্রেক্স লেবানন ও ইসরায়েলের এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই চুক্তি লঙ্ঘন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি অবশ্যই অবিলম্বে বন্ধ হতে হবে। আমরা সমস্ত পক্ষকে বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা এবং তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছি।’
তিনি আরও যোগ করেন যে ফ্রান্সের বর্তমান অগ্রাধিকার হলো এই যুদ্ধবিরতিকে আরও ‘সংহত’ করা, যাতে ইসরায়েল এবং লেবাননের মধ্যে সরাসরি শান্তি আলোচনা শুরু করা সম্ভব হয়। এই আলোচনাকে একটি ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ বলেও বর্ণনা করেছে ফ্রান্স।
সময়ের আলো/টিএইচ