আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসকে খাটো করে দেখলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। মাত্র একজন সংক্রমিত ব্যক্তির মাধ্যমেও ভাইরাসটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো ও উগান্ডার সীমানা ছাড়িয়ে আরও দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক মোহাম্মদ ইয়াকুব জানাবি।
শুক্রবার (২২ মে) জেনেভায় ডব্লিউএইচও সদর দফতরে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।
গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৬৭০টি সন্দেহভাজন সংক্রমণের মধ্যে ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও দুইজনের শরীরে ইবোলা শনাক্ত হয়েছে।
ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালক বলেন, আমাদের সবাইকে ঝুঁকিতে ফেলার জন্য সংস্পর্শে আসা মাত্র একটি ঘটনাই যথেষ্ট, তাই আমরা যেন ইবোলাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করি। ইবোলা একটি অত্যন্ত প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ। এতে আক্রান্ত ব্যক্তির জ্বর, শরীরব্যথা, বমি ও ডায়রিয়া দেখা দেয়। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল, দূষিত বস্তু কিংবা মৃতদেহের সংস্পর্শে এ ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
বর্তমান প্রাদুর্ভাব কতদিন স্থায়ী হতে পারে বা কতটা ভয়াবহ আকার নিতে পারে এ বিষয়ে এখনই মন্তব্য করতে চাননি মোহাম্মদ ইয়াকুব জানাবি।
তিনি বলেন, মানুষের অত্যন্ত গতিশীল চলাচল পরিস্থিতিকে কঠিন করে তুলছে। তবে সংক্রমণ পরীক্ষা বাড়ানো, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরির কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি এক মৃত ব্যক্তির মরদেহ নিয়ে বিরোধের জেরে ইবোলা চিকিৎসা শিবিরের তাঁবু পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জনের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে।
জানাবি বলেন, আমরা দুইটি ফ্রন্টে লড়াই করছি— একদিকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে, অন্যদিকে রোগটি নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্য ও গুজবের বিরুদ্ধে।
তিনি জানান, তবে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো এখন পর্যন্ত প্রথম সংক্রমিত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। প্রাথমিক সংক্রমণ শৃঙ্খল শনাক্ত ও বিচ্ছিন্ন করতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
/ইউএমএইচ