কারাগারে থেকেও রংপুর কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন আওয়ামী লীগের রংপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ও সমবায় মার্কেটের সাবেক চেয়ারম্যান তুষার কান্তি মণ্ডল— এমন অভিযোগে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে সমবায় অঙ্গনে। অভিযোগ উঠেছে, তার মৌখিক নির্দেশে নিয়োগপত্র ছাড়াই মাসের পর মাস বেতন উত্তোলন করছেন ব্যাংকের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার সরকার, অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর খায়রুন নাহার।
এ ঘটনায় দৈনিক সময়ের আলোতে সংবাদ প্রকাশের পর জেলা সমবায় কার্যালয় দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে তদন্ত প্রতিবেদন জেলা সমবায় কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. ফরিদ উদ্দিন সরকার সময়ের আলোকে বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়েছি। এটি বিভাগীয় কর্মকর্তার কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করে এবং তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।’
তদন্ত কমিটির প্রধান ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. আফতাবুজ্জামান বলেন, ‘তদন্তে ঘটনাটির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।’
অভিযোগ রয়েছে, তুষার কান্তি মণ্ডল কারাগারে থাকলেও তার ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে ব্যাংকের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। এতে ব্যাংকের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিয়োগপত্র ছাড়া কর্মচারীদের বেতন উত্তোলনের বিষয়টিও সমবায় আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে তদন্ত প্রতিবেদনের পর সমবায় ব্যাংকজুড়ে উদ্বেগ ও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেক সদস্য ও আমানতকারী দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
সর্বশেষ ২৩ মে (শনিবার) সমবায়ের একাধিক কর্মকর্তা সময়ের আলোকে বলেন, ওই অবৈধ দুই কর্মচারীকে আবারও বেতন দিতে পায়তারা করছে নির্বাহী কর্মকর্তা।
সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের বর্তমান নির্বাহী কর্মকর্তা জোবায়ের ইসমাইল বলেন, ‘বেতন দেওয়া বা না দেওয়ার আমি কেউ না।’
/মহু