রংপুরের পীরগঞ্জে দেশজুড়ে আলোচিত ট্রান্সফর্মার চুরি এবং চুরিতে বাধা দেওয়ায় স্কুল কর্মচারী মফিজার রহমান (৪৬) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত আন্তঃজেলা দুর্ধর্ষ ডাকাত ও চোর চক্রের মূল হোতাসহ সাতজন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অভিযানে চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, একটি মাইক্রোবাস, চুরির বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এবং তিনটি ট্রান্সফর্মারের ভেতরের মূল্যবান তামার কয়েল উদ্ধার করা হয়।
রোববার (২৪ মে) দুপুরে রংপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
পুলিশ জানায়, রংপুর জেলা পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) সুশান্ত কুমার রায়, জেলা ডিবি পুলিশ এবং পীরগঞ্জ থানা পুলিশের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করা হয়। এই টিম গত ২৩ ও ২৪ মে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত আসামিসহ ওই সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার খেতুপাড়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের মো. জামিকুল ইসলাম (৩২), জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার আমলাপুকুর এলাকার মো. আব্দুল জলিল (৩৮), গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পূর্বমঠ এলাকার সবুজ আকন্দ ওরফে শামীম (৩৪), গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বাশকাটা গ্রামের মো. শাহিন (৩৮), একই উপজেলার কবিরপুর সোনাতলা এলাকার আনিছুর রহমান (৪০) এবং মো. আমিনুল ইসলাম সরকার (৫৫)। বাকি একজনের নাম পাওয়া যায়নি।
পুলিশের দাবি, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা পীরগঞ্জে ট্রান্সফর্মার চুরি এবং স্কুল কর্মচারী মফিজার রহমানকে হত্যার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সংঘবদ্ধ চক্রটি দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিনব কায়দায় বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার চুরি করে আসছিল। পীরগঞ্জে চুরির সময় মফিজার রহমান বাধা দিতে গেলে তাকে হত্যা করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও ক্লু-লেস। সাম্প্রতিক সময়ে রংপুর জেলা পুলিশ বেশ কয়েকটি বড় বড় হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনে সফল হয়েছে, যার ধারাবাহিকতায় এই মামলার মূল আসামিদেরও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হলো।
জেলা ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আসামিদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে এবং মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সময়ের আলো/জোই