রাশিয়া ইউক্রেনে একটি বড় আকারের হামলা চালিয়েছে, যেখানে শত শত ড্রোন এবং কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল রাজধানী কিয়েভ, তবে অন্যান্য অঞ্চলেও আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত ৮৩ জন আহত হয়েছেন। কিয়েভ শহর ও আশপাশের এলাকায় চারজন নিহত হয়েছে।
রোববার (২৪ মে) পুরো অঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং আবাসিক ভবন ও স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলার জবাবে ওরেশনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।
প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেছেন, ইউক্রেন শুক্রবার স্টারোবিলস্ক শহরের একটি ছাত্রাবাসে হামলা চালিয়ে ২১ জনকে হত্যা করেছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, তারা ওই এলাকায় একটি রুশ সামরিক ইউনিটকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।
ইউরোপীয় নেতারা রাশিয়ার এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি আগে সতর্ক করেছিলেন যে রাশিয়া নতুন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে পারে।
রুশ বাহিনী যে ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, সেটি অত্যন্ত দ্রুতগতির এবং প্রচলিত ও পারমাণবিক— উভয় ধরনের ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, জার্মানি এবং যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ এই হামলার নিন্দা জানিয়ে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, শনিবার তারা ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৬০০টি ড্রোন শনাক্ত করেছে।
তারা আরও জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ৫৫টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৫৪৯টি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে ১৯টি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।
ইউক্রেনের জাতীয় পুলিশ বলেছে, এই হামলা কিয়েভের ৫০টিরও বেশি স্থানে আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে আবাসিক ভবন, শপিং সেন্টার এবং জরুরি সেবা ভবনও রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, শুধু রাজধানীতেই ৬৯ জন আহত হয়েছেন। একটি পানি সরবরাহ কেন্দ্রেও হামলা হয়েছে এবং কিয়েভের চেরনোবিল জাদুঘরটি কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে।
ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহোর ক্লিমেনকো বলেন, জাদুঘরে হামলাটি ছিল ইতিহাস, স্মৃতি ও সত্যের ওপর ইচ্ছাকৃত আঘাত। মন্ত্রণালয় প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে— ভাঙা কাচ, ক্ষতিগ্রস্ত ভবন এবং চারপাশে ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসস্তূপ।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা ইউক্রেনের বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালায়নি। তাদের মতে, তারা শুধু ইউক্রেনের স্থল বাহিনীর প্রধান কমান্ড এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দা অধিদফতরের কমান্ড পোস্টগুলোতে আঘাত হেনেছে। তবে ইউক্রেন এ বিষয়ে কোনো তথ্য নিশ্চিত করেনি।
এর আগে কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিটসকো জানান, শহরে দুইজন নিহত হয়েছেন এবং দুই শিশুসহ আরও ৩৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মধ্য কিয়েভের শেভচেঙ্কো জেলায় একটি নয়তলা আবাসিক ভবনে আঘাত লাগে, এতে একজন নিহত হন এবং ভবনের ওপরের তলায় আগুন ধরে যায়।
একই এলাকায় একটি স্কুলে বিমান হামলার আশ্রয়কেন্দ্রের কাছে বিস্ফোরণে প্রবেশপথ ধ্বংস হয়ে যায়, ফলে ভেতরে কয়েকজন মানুষ আটকা পড়ে।
শহরজুড়ে জরুরি সেবার কর্মীরা আগুন নেভানো, ধ্বংসস্তূপ সরানো এবং আহতদের চিকিৎসার কাজ চালিয়ে যায়।
কিয়েভ শহরের আশপাশের এলাকায় আরও দুইজন মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক প্রধান মাইকোলা কালাশনিক। তিনি এই হামলাকে সাধারণ মানুষের ওপর ইচ্ছাকৃত সহিংসতা বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি আরও বলেন, সব জায়গায় জরুরি সেবা দল কাজ করছে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানান, কিয়েভের বাইরে চেরকাসি, খারকিভ, ক্রোপিভনিটস্কি, ওডেসা, পোলতাভা, সুমি এবং ঝিটোমির অঞ্চলও এই হামলার শিকার হয়েছে।
/ইউএমএইচ