ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-কে সহযোগিতা করে ‘শত্রুতামূলক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ চালানোর অভিযোগে নয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে বাহরাইন।
এছাড়া, আইআরজিসির সঙ্গে সহযোগিতার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত আরও দুই আসামিকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তেহরানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বাহরাইনি কর্তৃপক্ষের কঠোর দমন-পীড়নের মধ্যেই এই রায় দেওয়া হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর বাহরাইনে ইরানি হামলার ঘটনা ঘটে। এর জবাবে ইরান জানায়, তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থ ও সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
প্রসিকিউটরদের দাবি, কয়েকজন আসামি আইআরজিসির পক্ষে বাহরাইনের গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত স্থাপনার ছবি তুলেছিলেন। অন্যদের বিরুদ্ধে ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের মাধ্যমে ইরান থেকে বাহরাইনে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া, কিছু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশের ভেতরে লোক নিয়োগের অভিযোগও করেছে কর্তৃপক্ষ।
যুদ্ধ শুরুর পরপরই মার্চ মাসে বাহরাইন ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে গ্রেফতার অভিযান শুরু করে। এই মাসের শুরুতে আরও ৪১ জনকে আটক করা হয়।
এর দুই সপ্তাহেরও কম সময় পরে, ইরানি হামলাকে সমর্থন করা এবং ‘বিদেশি সংস্থার সঙ্গে আঁতাত’-এর অভিযোগে ৬০ জনের বেশি মানুষের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়।
লন্ডনভিত্তিক বাহরাইন ইনস্টিটিউট ফর রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি এই পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়েছে এবং বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
অন্যান্য উপসাগরীয় দেশও ইরানকে সহযোগিতার অভিযোগে বিভিন্ন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। গত মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানায়, তারা ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত বলে দাবি করা একটি গোষ্ঠীকে ভেঙে দিয়েছে।
বাহরাইনে একটি বড় শিয়া জনগোষ্ঠী রয়েছে। তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রান্তিকীকরণের অভিযোগ তুলে আসছেন। তবে সরকার শিয়া নাগরিকদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং ইরানকে দেশটিতে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য দায়ী করেছে।
/ইউএমএইচ