বর্ষা মৌসুম এলেই কাঁচা রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। ছোট ছোট গর্তে পানি জমে খেলাধুলার অযোগ্য হয়ে পড়ে নিচু স্কুলের মাঠটিও। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ভালুকাকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে জাতীয়করণের পর পেয়েছে একটি এক তলা পাকা ভবন। সে ভবনেই যেন থমকে আছে উন্নয়ন। দীর্ঘদিন রাস্তা ও মাঠ নিয়ে দুর্ভোগের শিকার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসেনি কেউ।
প্রধান শিক্ষক মিনারুজ্জামান মিন্টু বলেন, ভালুকাকুড়া গ্রামে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় ২০০৭ সালে তৎকালীন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৩ সালে এটি জাতীয়করণ করা হয়। আমরা ফলাফলও ভালো করি। অথচ দীর্ঘদিন হলেও রাস্তাটি পাকা করা হচ্ছে না। মাঠটিও বর্ষায় খেলাধুলার উপযুক্ত থাকে না। আমরা চাই দ্রুত রাস্তাটি পাকা করার পাশাপাশি মাঠটিতে মাটি ভরাট করে খেলাধুলার উপযোগী করা হোক।
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সায়েদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট করার জন্য কোনো বরাদ্দ আমাদের দেওয়া হয় না। তবে আগামীতে সুযোগ এলে অবশ্যই আমি বিষয়টি দেখব। রাস্তা পাকাকরণের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, এই বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। আমাদের এখতিয়ারে নেই।
এলজিইডি বলছে, বিদ্যালয় ভবনটি এলজিইডি বাস্তবায়ন করেছে। রাস্তাটি আগে আইডিভুক্ত ছিল না। তবে কিছু দিন আগে আইডিভুক্ত করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বরাদ্দ এলে রাস্তাটি পাকা করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বর্তমানে ১৪৩ জন শিক্ষার্থী ও ৪ জন শিক্ষক নিয়ে ফলাফলের লড়াইয়েও খুব একটা পিছিয়ে নেই বিদ্যালয়টি।
নালিতাবাড়ী-হালুয়াঘাট পাকা সড়ক থেকে প্রায় ৬০০ মিটার দূরে থাকা বিদ্যালয়ে যাওয়ার রাস্তাটি কাঁচা। সামান্য বৃষ্টি হলেই যেখানে-সেখানে গর্ত হয়ে যায়। রাস্তার এখানে-সেখানে কাদায় সয়লাব হয়ে পড়ায় চলাচলে তৈরি হয় দুর্ভোগ।
একমাত্র মাঠটি তুলনামূলক নিচু জমিতে হওয়ায় মাঠজুড়েও খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে পানি আর কাদা জমে খেলাধুলার অযোগ্য হয়ে পড়ে। কর্দমাক্ত রাস্তায় চলতে গিয়ে প্রায়ই পা পিছলে পড়ে গিয়ে নষ্ট হয় শিশুদের কাপড়, বই-খাতা।
শিক্ষার্থী সাদিয়া জানায়, আমাদের বিদ্যালয়ে আসার সময় রাস্তায় কাদা থাকায় প্রায়ই পা পিছলে পড়ে যাই। কখনো কখনো কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে আমাদের পাকা রাস্তা দরকার। আরেক শিক্ষার্থী জানায়, আমরা কাদার জন্য স্কুলে আসতে পারি না। রাস্তায় কাদা থাকে, মাঠে কাদা থাকে। আমরা ভালোভাবে খেলাধুলা করতে পারি না।
স্থানীয়রা জানান, শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নালিতাবাড়ী সদর ইউনিয়নের নিভৃত গ্রাম ভালুকাকুড়া। হালুয়াঘাট উপজেলাঘেঁষা শিক্ষায় পিছিয়ে পড়া গ্রামটিতে শিক্ষার আলো ছড়াতে ২০০৭ সালে নিজেদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করা হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়। ২০১০ সালে অনুমোদনপ্রাপ্ত হয় বিদ্যালয়টি। একই বছর বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করে সরকার। এরপর ২০১৯ সালে এক তলা একটি ভবন নির্মাণ করে সরকার।
/এসএকে