পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মিশরে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর বাজার। তবে এবারের ঈদে শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতাই নয়, মানবিক সহমর্মিতার এক অনন্য উদাহরণও তৈরি করছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। মিশরে আশ্রয় নেওয়া ফিলিস্তিনি শরণার্থী ও গাজার অসহায় মানুষের জন্য কোরবানির আয়োজন করছে বাংলাদেশের কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
রাজধানী কায়রোসহ বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে উট, গরু ও দুম্বা কেনার কার্যক্রম শুরু করেছে এসব সংগঠন। কোরবানির পর মাংস পৌঁছে দেওয়া হবে যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর কাছে।
এ উদ্যোগে অংশ নিয়েছে এএসএইচ ফাউন্ডেশন, মাস্তুল ফাউন্ডেশন, ওয়ার্ল্ড ওয়ান উম্মাহ ফাউন্ডেশনসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা জানান, বাংলাদেশিদের অনুদানের অর্থে কোরবানির পশু কেনা হচ্ছে। ঈদের দিন এসব পশু জবাই করে মিশরে অবস্থানরত ফিলিস্তিনি শরণার্থী ও গাজার দরিদ্র মানুষের মাঝে মাংস বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে গাজার ভেতরেও কিছু সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন
মিশরে কোরবানির বাজার বাংলাদেশের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। বড় অস্থায়ী পশুর হাটের পরিবর্তে সড়কের পাশে, মহল্লায় কিংবা ছোট খামারে পশু বিক্রি হয় বেশি। অনেক পরিবার নিজ বাড়িতেই পশু লালন-পালন করে ঈদের সময় বিক্রি করে থাকেন।
স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পশুর দাম মূলত ওজন অনুযায়ী নির্ধারণ করা হচ্ছে। দুম্বা, ছাগল, গরু ও উটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বড় আকারের গরু ও উটের দাম কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত উঠছে।
তবে মিশরের ঈদ সংস্কৃতির আরেকটি দিকও নজর কাড়ে। জিলহজ মাস শুরু হওয়ার পর থেকেই অনেক বিত্তবান ব্যক্তি বাজার থেকে মাংস কিনে দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করেন। কেউ কেউ গাড়িতে করে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে শ্রমজীবী ও অসহায় মানুষের হাতে মাংসের প্যাকেট তুলে দেন।
এএডি/