পবিত্র হজে মিনার দিন কেন গুরুত্বপূর্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

শুরু হয়েছে পবিত্র হজ। সৌদি আরবে হজযাত্রীদের আগমন ক্রমাগত বাড়তে থাকায় এবছর প্রায় ২০ লাখ মুসলমান হজ পালন করবেন বলে

2026-05-25T16:37:28+00:00
2026-05-25T17:04:32+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
পবিত্র হজে মিনার দিন কেন গুরুত্বপূর্ণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৪:৩৭ পিএম  আপডেট: ২৫.০৫.২০২৬ ৫:০৪ পিএম
মিনায় যাচ্ছেন হজযাত্রীরা। ছবি : আনাদোলু
শুরু হয়েছে পবিত্র হজ। সৌদি আরবে হজযাত্রীদের আগমন ক্রমাগত বাড়তে থাকায় এবছর প্রায় ২০ লাখ মুসলমান হজ পালন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মিনায় আগমনের মধ্য দিয়ে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। 

আজ মিনায় পৌঁছে হজযাত্রীরা পালন করছেন ‘ইয়াওমুত তারবিয়া’ বা তারবিয়ার দিন, যা হজের আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে পরিচিত। এই দিনটি মূলত আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের প্রস্তুতির দিন।  

ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী, হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন হলো আরাফাতে অবস্থান, যা মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। তারবিয়ার দিনে হজযাত্রীরা দোয়া, জিকির ও গভীর চিন্তাভাবনার মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করেন এবং তালবিয়া পাঠ করতে থাকেন। মিনায় তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সংক্ষিপ্ত আকারে আদায় করেন এবং সেখানে রাতযাপন করেন। এরপর ৯ জিলহজ সূর্যোদয়ের পর তারা আরাফাতের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।  

মিনার ধর্মীয় গুরুত্ব

মিনা শুধু হজের সূচনাস্থলই নয়, বরং হজের গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতারও কেন্দ্র। ঈদুল আজহার প্রথম দিন, অর্থাৎ কোরবানির দিনে হজযাত্রীরা আবার মিনায় ফিরে আসেন। এরপর তাশরীকের তিন দিনও তারা এখানে অবস্থান করেন।

মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদ থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে, মুজদালিফা ও মক্কার মাঝামাঝি অবস্থিত মিনার আয়তন প্রায় ১৬.৮ বর্গকিলোমিটার। চারদিকে পাহাড়বেষ্টিত এই উপত্যকায় শুধুমাত্র হজ মৌসুমেই মানুষের বসতি গড়ে ওঠে।

ঐতিহাসিকদের মতে, ‘মিনা’ নামটি আরবি একটি শব্দমূল থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘রক্ত প্রবাহিত হওয়া’। অতীতে এখানে বিপুল পরিমাণ পশু কোরবানির কারণে এ নামকরণ হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, অ্যাটলাস অব হজ অ্যান্ড উমরাহ : হিস্ট্রি অ্যান্ড জুরিসপ্রুডেন্স গ্রন্থে মিনার নামের আরেকটি ব্যাখ্যাও পাওয়া যায়। সেখানে বলা হয়েছে, নবী আদম (আ.) এই স্থানে জান্নাত কামনা করেছিলেন, অথবা এটি এমন একটি স্থান ছিল যেখানে মানুষ সমবেত হতো।  

মিনা গভীর ধর্মীয় তাৎপর্য বহন করে, কারণ এটি নবী ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতিবিজড়িত একটি স্থান। ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, আল্লাহর নির্দেশে তিনি তার পুত্রকে কোরবানি করতে উদ্যত হয়েছিলেন। পরে মহান আল্লাহ একটি ভেড়া পাঠিয়ে সেই কোরবানি শুরু করেন।

এ স্থানটি হজের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নিদর্শনের জন্যও সুপরিচিত। এর মধ্যে রয়েছে তিনটি জামারাত বা প্রতীকী স্তম্ভ, যেখানে শয়তানকে উদ্দেশ করে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ করা হয়। ১০ জিলহজে জামরাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপ করা হয় এবং ১১, ১২ ও ১৩ জিলহজ তাশরীকের দিনগুলোতে তিনটি জামারাতেই এই আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়। 

মিনায় অবস্থিত ঐতিহাসিক আল-খাইফ মসজিদও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এখানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বিদায় হজের ভাষণ প্রদান করেছিলেন বলে বর্ণনা রয়েছে।

ইসলামের প্রাথমিক ইতিহাসেও মিনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। হিজরতের আগে ১২তম ও ১৩তম নববী বর্ষে এখানেই আকাবার প্রথম ও দ্বিতীয় অঙ্গীকার সংঘটিত হয়েছিল, যেখানে ইয়াসরিব (বর্তমান মদিনা) থেকে আগত আনসারদের প্রতিনিধিদল মহানবী (সা.)-এর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন।


সম্প্রসারিত অবকাঠামো ও জলবায়ু ব্যবস্থা

সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঘাসান আল-নুওয়াইমি রোববার সন্ধ্যায় জানান, পবিত্র স্থানগুলোতে ২৫টিরও বেশি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় শতভাগ বেড়েছে। 

তিনি বলেন, এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে মিনার ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি, ৫৪ হাজারের বেশি তাঁবু প্রস্তুত করা এবং ৬০ হাজারেরও বেশি গাছ লাগিয়ে গ্রিন ‘হোলি সাইটস’ উদ্যোগ সম্প্রসারণ।

২০২৫ সালে চালু হওয়া ‘গ্রিন হোলি সাইটস’ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো পবিত্র স্থানগুলোতে সবুজায়ন বাড়ানো, বায়ুর মান উন্নয়ন এবং হজযাত্রীদের জন্য আরও আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা। 

সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ৬০ হাজারের বেশি গাছ লাগানোর ফলে পবিত্র স্থানগুলোর সবুজ এলাকা তিনগুণ বেড়েছে।

এছাড়া, আগে যেসব অঞ্চল বেশি ব্যবহার করা হতো সেখানে বেশ কয়েকটি এলাকায় কার্যকর সেবামূলক পরিবেশে রূপান্তর করা হয়েছে। এর ফলে টানা তিনটি হজ মৌসুমে মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ২ লাখ ৯ হাজার হজযাত্রী পর্যন্ত বেড়েছে, যা বছরে গড়ে ৭০ হাজার অতিরিক্ত তীর্থযাত্রীকে সেবা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।   
সংস্থাটি জানায়, চলতি বছরের হজ মৌসুমে প্রায় ৮৭ হাজার হজযাত্রী এসব সম্প্রসারণ প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। 

রোববার সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে যে তারবিয়ার দিনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মিনায় হজযাত্রীদের পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিচালন ও মাঠপর্যায়ের ব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় শিবিরে হজযাত্রীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, সেবার মান তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে কার্যক্রম সমন্বয় করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, আবাসন কেন্দ্র থেকে মিনায় হজযাত্রীদের পরিবহন তদারকি, শিবিরে নির্বিঘ্ন প্রবেশ নিশ্চিত করা, দিকনির্দেশনা ও সচেতনতামূলক সেবা প্রদান এবং অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে দেওয়ার কাজও চলমান রয়েছে। 

অন্যদিকে, সৌদি জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রও তারবিয়ার দিনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। হজযাত্রী ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের জন্য পাঁচটি ভাষায় আবহাওয়াবিষয়ক সচেতনতামূলক সেবা চালু করা হয়েছে।

কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, তারবিয়ার দিনে মিনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১১৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট এবং সর্বনিম্ন ৮২ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এ সময় উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর দিক থেকে ঘণ্টায় প্রায় ৩৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। আর্দ্রতার মাত্রা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছানোর পাশাপাশি আংশিক মেঘলা আকাশ ও মাঝে মাঝে ধূলিঝড়ের সম্ভাবনাও রয়েছে। 



/ইউএমএইচ




  বিষয়:   হজ  মিনা 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: