আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘অন্য পথ’ বেছে নেবে : রুবিও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা সফল না হলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে মোকাবেলায় ‘অন্য পথ’ অনুসরণ করবে। তিনি

2026-05-25T17:19:17+00:00
2026-05-25T23:51:32+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘অন্য পথ’ বেছে নেবে : রুবিও
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৫:১৯ পিএম  আপডেট: ২৫.০৫.২০২৬ ১১:৫১ পিএম
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ছবি : আল-জাজিরা
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা সফল না হলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে মোকাবেলায় ‘অন্য পথ’ অনুসরণ করবে। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে একটি ‘খুবই শক্তিশালী’ চুক্তির প্রস্তাব বর্তমানে আলোচনার টেবিলে রয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) নয়াদিল্লি সফর শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমরা ভেবেছিলাম গত রাতে, হয়তো আজই কোনো অগ্রগতির খবর পাব। তবে আমি বিষয়টিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিতে চাই না।

রুবিওর বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইরান-সংক্রান্ত সংঘাত বন্ধে একটি সম্ভাব্য চুক্তি কাছাকাছি পৌঁছেছে।

তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার সক্ষমতার প্রশ্নে আমাদের সামনে অত্যন্ত শক্তিশালী একটি প্রস্তাব রয়েছে।

গত ৮ এপ্রিল থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে মধ্যস্থতাকারীরা এখনো একটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধানের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে, ইরান অধিকাংশ জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী কার্যত সীমিত করে রেখেছে এবং পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করেছে।

রোববার ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, কোনো চুক্তি চূড়ান্ত, অনুমোদিত ও স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ পুরোপুরি বহাল থাকবে।

তিনি আরও বলেন, উভয় পক্ষকেই সময় নিতে হবে এবং সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে।

অন্যদিকে, সোমবার তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে।

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান পর্যায়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু ইস্যু নিয়ে আলোচনা করছে না, বরং তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটানো।

ইসমাইল বাঘাই বলেন, সম্ভাব্য কোনো চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে, এমন নিশ্চয়তা তেহরান এখনো দেখছে না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরান কোনো ‘হুমকি’কে গুরুত্ব দেয় না।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করে বলেছিলেন, ওয়াশিংটন হয় একটি ‘ভালো চুক্তি’ নিশ্চিত করবে, নতুবা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ‘অন্য কোনো উপায়’ বেছে নেবে। এর প্রতিক্রিয়াতেই বাঘাই এসব মন্তব্য করেন।

রুবিও বলেন, হয় আমরা একটি ভালো চুক্তিতে পৌঁছাব, নয়তো আমাদের এটি অন্যভাবে মোকাবেলা করতে হবে। তবে আমরা একটি ভালো চুক্তিই চাই।

এদিকে, কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হওয়ায় প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের কর্মকর্তারা সোমবার চীন সফরে ছিলেন। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বেইজিংয়ে চীনা নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

চীন জানিয়েছে, তারা পাকিস্তানের সঙ্গে মিলে ‘মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা’ রাখতে চায়।

যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভির সঙ্গে তেহরান সফর করেছিলেন জেনারেল আসিম মুনির।


চুক্তির মূল বিতর্কের বিষয়

সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খবর সামনে আসার পর ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলোচনার সর্বশেষ অগ্রগতির রূপরেখা তুলে ধরেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিনিময়ে ইরান ‘নীতিগতভাবে’ তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ নিষ্পত্তি করতে এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা অনুযায়ী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি চুক্তির সামগ্রিক কাঠামোকে সমর্থন দিয়েছেন।

তবে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিতকরণ আসেনি। এছাড়া ‘নীতিগতভাবে সম্মতি’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

মার্কিন ওই কর্মকর্তা জানান, ওয়াশিংটনের অগ্রাধিকার হলো প্রথমে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করা এবং এরপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা। তবে পরমাণু কার্যক্রমসংক্রান্ত কারিগরি ও বিস্তারিত বিষয় নিয়ে আলোচনায় আরও সময় লাগবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ইরান তাদের মজুদকৃত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিষ্পত্তিতে রাজি হয়নি— এমন ধারণাও তিনি নাকচ করে দেন। তার ভাষায়, প্রশ্নটি হলো, এটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্স-এর জ্যেষ্ঠ ফেলো চার্লস কুপচান মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান অবস্থান পরিবর্তন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা এখনো কম।

আল জাজিরাকে তিনি বলেন, আমার মনে হয় ট্রাম্প প্রশাসন এখনো দিক নির্ধারণের পর্যায়ে রয়েছে। একদিন তারা এক পথে এগোচ্ছে, পরের দিন আবার অন্য পথে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আলোচনার কিছু অংশ গোপনীয়, আর কিছু অংশ জনসম্মুখে কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা নিশ্চিতভাবে না জানি যে ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগ করতে প্রস্তুত কি না এবং কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে রাজি কি না, ততক্ষণ বলা কঠিন যে আমরা একটি স্থায়ী চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছি।


সূত্র : আল-জাজিরা 

/ইউএমএইচ





  বিষয়:   মার্কো রুবিও  যুক্তরাষ্ট্র  ইরান 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: