কোরবানি ঈদে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পশু জবাইয়ের পর মাংস প্রক্রিয়াকরণ। এই কাজে প্রয়োজনীয় উপকরণগুলোর মধ্যে অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে কাঠের পাটাতন ‘খাইট্টা’। সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে তেঁতুল গাছের খাইট্টার। কসাইখানায় সারা বছরই এটির ব্যবহার হলেও বিপুল চাহিদা তৈরি হয় ঈদুল আজহার সময়। একটি গরু প্রক্রিয়া করতে প্রায় দুই থেকে তিনটি ও ছাগলের জন্য অন্তত একটি গুঁড়ির প্রয়োজন হয়ে থাকে। তাইতো কোরবানি দাতারা আগেভাগেই কিনছেন এই খাইট্টা।
সাধারণত স’মিলগুলোতে গাছের গুঁড়ি করাতে ফেলে ছোট ছোট গোলাকৃতির টুকরো তৈরি করে এটি বানানো হয়। এলাকাভেদে এর বিভিন্ন নাম আছে। কোথাও এটাকে বলে খাইট্টা, কোথাও আবার বলে খাইটি, গুঁড়ি, শপার, হাইজ্যা ইত্যাদি। নাম যাই হোক তেঁতুল ও বাবলা গাছের গুড়ি থেকেই এটি বেশি তৈরি করছেন স’মিল মালিকরা। গাছ এবং সাইজের পার্থক্যে প্রতিটি সাধারণ মানের গুঁড়ি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৭০০ টাকায়। বড় আকারের গুঁড়ির দাম প্রায় ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
খাইট্টা ব্যবসায়ী মুনসুর আলম জানান, তেঁতুলের তৈরি প্রতিটি ছোট, বড় ও মাঝারি সাইজের খাইট্টা ৩০০ থেকে শুরু করে ৭০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করছেন। তবে অন্যবারের চেয়ে এবার বেচাকেনা কম। একবার কিনলে ২ থেকে ৩ বছর ব্যবহার করা যায়। হয়ত সে জন্যই এবার ক্রেতা কম। একই কথা জানালেন তুফান, ইনামুলসহ বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী।
গাংনীর শিশিরপাড়া গ্রামের কসাই আলমগীর হোসেন বলেন, প্রতিবছর কোরবানির সময় আমরা কয়েকজন বেশ কয়েকটি দল বানিয়ে ঢাকায় যাই। এবারও যাবো। তাই বড় সাইজের কয়েকটি খাইট্টা কেনা লেগেছে ১৭০০ টাকা দামে। একই কথা জানালেন কসাই জাহাঙ্গীর, লাভলুসহ অনেকেই।
/মহু