একসময় অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণ মানেই ছিল ভয়ংকর গতি, নিরন্তর চাপ আর অবিশ্বাস্য ফিটনেসের প্রতীক। সময়ের সঙ্গে বদলেছে বাস্তবতা। বয়স বাড়ছে, শরীরের ধকলও বাড়ছে। তাই সামনে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে এখন থেকেই সতর্ক পথে হাঁটছে অস্ট্রেলিয়া। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজে প্যাট কামিন্স, জস হ্যাজেলউড ও মিচেল স্টার্ককে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা উঠলেও কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড বলেছেন, বিষয়টি খেলোয়াড়দের পছন্দ-অপছন্দ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ।
আগামী ৩০ মে থেকে ২১ জুন পর্যন্ত পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সফরে সাদা বলের ক্রিকেট খেলবে অস্ট্রেলিয়া। তবে এই দুই সফরের ওয়ানডে দলে নেই তাদের অভিজ্ঞ তিন পেসার কামিন্স, হ্যাজলউড ও স্টার্ক। আইপিএলের প্রথম ভাগে চোটের কারণে তারা অনিয়মিত ছিলেন। তবে কামিন্স ও হ্যাজলউড খেলবেন আইপিএলের প্লে-অফে। আইপিএল শেষে জুনের ওয়ানডে সিরিজগুলোতে তাদের দেখা যাবে না। এ ছাড়া বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও থাকছেন না কামিন্স ও হ্যাজলউড। আর স্টার্ক তো আগেই টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার সামনে অপেক্ষা করছে ভয়ংকর ব্যস্তসূচি। ২০২৭ বিশ্বকাপের আগে মাত্র ১২ মাসে খেলতে হবে ২০টি টেস্ট, ৯টি ওয়ানডে ও ৫টি টি-টোয়েন্টি। এর মধ্যে আবার আইপিএলও আছে। সব মিলিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এখন থেকেই তাদের মূল পেসারদের শরীরের ওপর চাপ কমাতে চাইছে।
অস্ট্রেলিয়া কোচ ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘মানুষ শুধু সামনে থাকা ম্যাচগুলো দেখে প্রশ্ন করছে, ওরা কেন খেলছে না। কিন্তু ২০২৭ থেকে উল্টো দিক দিয়ে হিসাব করলে বোঝা যায়, এই সময়টাই আমাদের সবচেয়ে বড় বিরতি। এই সময়টা আমরা তাদের শরীর প্রস্তুত করতে কাজে লাগাতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই তারা ২০২৭ বিশ্বকাপে খেলুক। কিন্তু সেটা সহজ হবে না। ২০২৩ সালেও আমরা এমন পরিকল্পনা করেছিলাম। তখন ১৯টি টেস্ট ছিল, এবার আরও বেশি। সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো, এখন আমরা চার বছর বেশি বয়স্ক।’
খেলোয়াড়রা নিজেরাই সিরিজ বেছে নিচ্ছেন, এমন ধারণাকেও ভুল বলছেন ম্যাকডোনাল্ড। তার ভাষায়, ‘একটা ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে খেলোয়াড়রা নিজেরা ঠিক করছে কোথায় খেলবে, কোথায় খেলবে না। বাস্তবে ব্যাপারটা এমন নয়। সামনে কী সূচি আছে, সেটা মাথায় রেখেই আমরা সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। খেলোয়াড়রা খেলতে চায়, কিন্তু আমরা মনে করছি এখনই তাদের খেলানো ঠিক সময় নয়।’
বিশেষ করে কামিন্সকে নিয়ে আলাদা সতর্কতা আছে অস্ট্রেলিয়ার। পিঠের চোটের কারণে গত এক বছরে খুব কম ক্রিকেট খেলেছেন। ২০২৩ বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে মাত্র দুটি ওয়ানডে খেলেছেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক।
ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘প্যাট এখনও ওয়ানডে দলের প্রতি পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু তার শরীরের কথা চিন্তা করেই আমরা তাকে খেলাচ্ছি না। সাম্প্রতিক পিঠের চোট আমাদেরও ভাবিয়েছে। তাই তাকে খুব সতর্কভাবে ম্যানেজ করতে হবে।’
২০২৭ সালে বিশ্বকাপের সময় স্টার্কের বয়স হবে ৩৭, হ্যাজলউডের ৩৬ আর কামিন্সের ৩৪ বছর। বয়সের বিষয়টিও খোলাখুলিভাবেই স্বীকার করেছেন অস্ট্রেলিয়া কোচ। হাসতে হাসতেই তিনি বলেন, ‘জানি না এটা প্রকাশ্যে বলা ঠিক হবে কি না, ওরা হয়তো আমার ওপর রাগ করবে...কিন্তু সত্যি হলো, আমরা সবাই বয়সে বড় হচ্ছি। এটা আমাদের জন্য নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এতদিন তারা দারুণভাবে নিজেদের সামলেছে। তবে সম্প্রতি কয়েকটি চোট হয়েছে। তাই আমাদের অনেক সময় দিতে হবে তাদের শরীর ঠিকভাবে ম্যানেজ করতে।’
অর্থাৎ আগামী বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখন থেকেই ঝুঁকি কমানোর পথে হাঁটছে অস্ট্রেলিয়া। তাৎক্ষণিক সিরিজের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। আর সেই পরিকল্পনার কেন্দ্রেই আছেন কামিন্স-স্টার্ক-হ্যাজলউডদের মতো অভিজ্ঞ গতি তারকারা।
আরবিএন