দীর্ঘ প্রায় ৮৭ দিন সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকার পর অবশেষে ইরানে পুনরায় ইন্টারনেট সেবা চালু হতে শুরু করেছে। দেশটির প্রথম ভাইস-প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ মঙ্গলবার (২৬ মে) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একে বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘতম জাতীয় ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্নতার ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় ভাইস-প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ লিখেছেন, সাইবার স্পেসে অবাধ ও নিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকারের লক্ষ্যে প্রথম পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে।
গ্লোবাল ইন্টারনেট মনিটরিং গ্রুপ ‘নেটব্লকস’ এবং ‘কেনটিক’ জানিয়েছে, মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় ১ টার দিকে ইরানের নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় ‘আংশিক’ সংযোগ পুনরুদ্ধার হতে দেখা গেছে। তবে কেনটিক সতর্ক করে বলেছে, দেশের অধিকাংশ নেটওয়ার্ক এখনও সচল হয়নি এবং এটি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা শুরু করার পর দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। ইরান সরকারের দাবি ছিল— নজরদারি, গোয়েন্দাগিরি এবং বড় ধরনের সাইবার হামলা ঠেকাতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
এর আগে, জানুয়ারি মাসে দেশটিতে সরকারবিরোধী তীব্র বিক্ষোভের সময় প্রথম দফায় ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে মাত্র এক মাসের জন্য ইন্টারনেট চালু করা হয়েছিল, কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলার পর তা আবারও সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন পর ইন্টারনেট ফিরে আসায় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে ইন্টারনেট-ভিত্তিক উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সারদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। রাজধানী তেহরানের এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানান, মঙ্গলবার তিনি তার বাড়ির ওয়াইফাই সংযোগ ব্যবহার করতে পেরেছেন। তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এখন আমার আয়ের পথটা অন্তত আবার খুলবে।
তবে নেটব্লকস-এর গবেষণা পরিচালক ইশিক মাটের বিবিসি ভেরিফাইকে জানিয়েছেন, ইরানে ইন্টারনেট সেবা চালুর প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল এবং এটি দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। অতীতের অভিজ্ঞতা টেনে তিনি বলেন, ইতিহাস বলে, প্রতিবারই ইরানে দীর্ঘ ব্ল্যাকআউটের পর যখন ইন্টারনেট ফিরিয়ে আনা হয়েছে, তখন আগের চেয়ে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বিমান হামলার পর ইরানের পক্ষ থেকে যখন তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছিল, ঠিক তখনই এই ইন্টারনেট সেবা সচল করার প্রক্রিয়া শুরু হলো। ইরান এই বিমান হামলাকে গত ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি চুক্তির ‘চরম লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন দাবি করেছে, ইরানি বাহিনী কর্তৃক মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে মাইন স্থাপনের চেষ্টা নস্যাৎ করতেই এই ‘আত্মরক্ষামূলক’ হামলা চালানো হয়েছে।