কোরবানি শুধু পুরুষদের জন্য নির্ধারিত কোনো ইবাদত নয়, বরং ইসলাম নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই একই আর্থিক মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে। এটি আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, ত্যাগ ও কৃতজ্ঞতার এক মহান নিদর্শন। ঈদুল আজহার সময় মুসলমানরা পশু কোরবানির মাধ্যমে হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর মহান ত্যাগের স্মৃতিকে পুনর্জীবিত করেন। তবে শরিয়তের দৃষ্টিতে কোরবানি সবার ওপর বাধ্যতামূলক নয়; বরং নির্দিষ্ট সামর্থ্যবান নারী ও পুরুষের ওপরই এ ইবাদত ওয়াজিব হয়।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখে যার কাছে মৌলিক প্রয়োজন ও ঋণ পরিশোধের পর অতিরিক্ত সম্পদ হিসেবে সাড়ে সাত তোলা সোনা, সাড়ে বাহান্ন তোলা রুপা অথবা সমপরিমাণ নগদ অর্থ কিংবা ব্যবসায়িক পণ্য থাকে, তিনি ‘সাহেবে নেসাব’ হিসেবে গণ্য হবেন। এমন ব্যক্তির ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়।
এ বিধান নারীদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনো নারীর কাছে যদি নিজস্ব মালিকানাধীন স্বর্ণালংকার, সঞ্চয় বা অন্যান্য সম্পদ নেসাব পরিমাণে থাকে, তাহলে তার ওপরও কোরবানি ওয়াজিব হবে, তিনি বিবাহিত হোন বা অবিবাহিত। এমনকি স্বামীর আর্থিক অবস্থা দুর্বল হলেও, স্ত্রী যদি সাহেবে নেসাব হন তবে তাকে নিজ নামে কোরবানি আদায় করতে হবে।
অন্যদিকে, অসামর্থ্যবান নারী বা পুরুষ কারও ওপরই কোরবানি ওয়াজিব নয়। তাই লোকলজ্জা, সামাজিক চাপ বা প্রতিযোগিতার কারণে ঋণ করে কোরবানি করার প্রয়োজন নেই। ইসলাম কখনো মানুষের ওপর অসহনীয় বোঝা চাপিয়ে দেয়নি। বরং সামর্থ্য অনুযায়ী একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোরবানি আদায় করাই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা।
সূত্র : ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি, ৫/২৯২।