ঈদ-উল-আজহা মানেই আনন্দ, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো আর সুস্বাদু খাবারের বিশেষ আয়োজন। আর এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ গরু ও খাসির মাংসের মুখরোচক সব পদ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অতিথি আপ্যায়ন, একসঙ্গে খাওয়া আর রান্নাঘরজুড়ে ভেসে বেড়ানো মসলার সুবাস— সব মিলিয়ে ঈদের আমেজ হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত।
ঈদকে আরও বিশেষ করে তুলতে ঘরেই তৈরি করতে পারেন জনপ্রিয় তিনটি মজাদার মাংসের রেসিপি।
মেজবানি মাংস
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী এই পদটি ঝাল-মসলাদার স্বাদের জন্য বেশ জনপ্রিয়। গরুর মাংস, কলিজা ও হাড় একসঙ্গে ব্যবহার করলে স্বাদ আরও বাড়ে।
প্রথমে সরিষার তেলে পেঁয়াজকুচি লালচে করে ভেজে নিতে হবে। এরপর গরম মসলা বাদ দিয়ে বাকি সব মসলা মাংসের সঙ্গে মেখে কড়াইয়ে দিয়ে ভালোভাবে কষাতে হবে। কিছুক্ষণ পর গরম পানি দিয়ে ঢেকে রান্না করুন। মাংস নরম হয়ে এলে গরম মসলা যোগ করে আরও কিছুক্ষণ দমে রাখুন। তাহলেই তৈরি হয়ে যাবে সুস্বাদু মেজবানি মাংস।
গরুর মাংসের স্টেক
ভিন্ন স্বাদের কিছু খেতে চাইলে গরুর মাংসের স্টেক হতে পারে দারুণ পছন্দ।
হাড়ছাড়া গরুর মাংস পরিষ্কার করে পছন্দমতো কেটে নিতে হবে। এরপর আদা-রসুন পেস্ট, টমেটো সস, গোলমরিচ, জিরার গুঁড়া, স্টেক স্পাইস ও অলিভ অয়েল একসঙ্গে মিশিয়ে মেরিনেড তৈরি করুন। সেই মিশ্রণ মাংসে মেখে কয়েক ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিন। পরে মাঝারি আঁচে গ্রিল বা ওভেনে রান্না করুন। খেয়াল রাখতে হবে যেন স্টেক বেশি শক্ত না হয়ে যায়। পরিবেশনের আগে গ্রেভি বা পছন্দের সস যোগ করলে স্বাদ আরও বেড়ে যাবে।
মাটন কোরমা
খাসির মাংসের এই কোরমা ঈদের টেবিলে এনে দেয় রাজকীয় স্বাদ।
মাংস ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিয়ে আদা-রসুন বাটা, পেঁয়াজ বাটা, টক দই, গরম মসলা, লবণ ও কিছুটা ঘি দিয়ে মাখিয়ে রান্না শুরু করুন। মাংস সেদ্ধ হয়ে এলে কেওড়া জল ও কাঁচা মরিচ দিয়ে আরও কিছুক্ষণ রান্না করুন। অন্যদিকে ঘিতে পেঁয়াজকুচি সোনালি করে ভেজে মাংসে বাগার দিন। পরে চিনি, জাফরান মেশানো দুধ ও লেবুর রস যোগ করে কম আঁচে দমে রাখুন। মাংস মাখা-মাখা হয়ে তেল ছেড়ে দিলে নামিয়ে পরিবেশন করুন সুগন্ধি ও মজাদার মাটন কোরমা।
ঈদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে তুলতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে উপভোগ করতে পারেন এসব ঐতিহ্যবাহী ও লোভনীয় মাংসের পদ।
/ইউএমএইচ