ঈদে পছন্দের খাবার খেয়েও যেভাবে সুস্থ থাকবেন

সময়ের আলো ডেস্ক

ফিচার

ঈদুল আজহা শুধু ধর্মীয় উৎসবই নয়, এটি আনন্দ, ত্যাগ, পারিবারিক বন্ধন ও ভালোবাসা ভাগাভাগির এক অনন্য উপলক্ষ। কোরবানির এই ঈদে

2026-05-28T13:34:25+00:00
2026-05-28T13:34:25+00:00
 
  শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
ফিচার
ঈদে পছন্দের খাবার খেয়েও যেভাবে সুস্থ থাকবেন
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ১:৩৪ পিএম 
ঈদের আনন্দ পুরোপুরি উপভোগ করতে হলে খাবারের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সংগৃহীত ছবি
ঈদুল আজহা শুধু ধর্মীয় উৎসবই নয়, এটি আনন্দ, ত্যাগ, পারিবারিক বন্ধন ও ভালোবাসা ভাগাভাগির এক অনন্য উপলক্ষ। কোরবানির এই ঈদে ঘরে ঘরে তৈরি হয় গরু, খাসি, মহিষ কিংবা উটের মাংসের নানান সুস্বাদু পদ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অতিথি আপ্যায়ন, আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে দাওয়াত আর পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া— সব মিলিয়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। তবে ঈদের আনন্দ পুরোপুরি উপভোগ করতে হলে খাবারের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। 

ঈদের সময় সাধারণত খাবারের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেড়ে যায়। বিশেষ করে মাংসের বিভিন্ন পদ, ভুনা, কাবাব, কালাভুনা, কোরমা কিংবা নেহারির মতো খাবার অনেকেই পছন্দ করে অতিরিক্ত খেয়ে ফেলেন। কিন্তু হঠাৎ করে অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার খেলে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বদহজম, গ্যাস্ট্রিক, বুক জ্বালাপোড়া, পেট ফাঁপা, অস্বস্তি কিংবা ডায়রিয়ার মতো সমস্যাও হতে পারে। তাই উৎসবের আনন্দের মাঝেও খাবারের পরিমাণ ও ধরন সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

মাংস শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খাদ্য উপাদান। এতে রয়েছে উচ্চমানের প্রাণিজ প্রোটিন, আয়রন, জিংক ও ভিটামিন বি-১২, যা শরীরের শক্তি বৃদ্ধি ও পুষ্টির ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে। তবে মাংসের উপকারিতা পেতে হলে তা অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে। অতিরিক্ত লাল মাংস বা চর্বিযুক্ত অংশ বেশি খেলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

ঈদের রান্নায় অনেক সময় স্বাদ বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত তেল, ঘি বা চর্বি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু অতিরিক্ত চর্বি শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই রান্নার সময় যতটা সম্ভব কম তেল ব্যবহার করা ভালো। মাংস রান্নার আগে দৃশ্যমান চর্বি ফেলে দিলে তা তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর হয়। পাশাপাশি মাংসের সঙ্গে সালাদ, শাকসবজি, ডাল বা আঁশযুক্ত খাবার রাখলে হজম প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং শরীরও ভারী লাগে না।

ঈদের সময় আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের বাড়িতে দাওয়াত থাকাটা আমাদের সংস্কৃতিরই একটি অংশ। তবে একসঙ্গে সব জায়গায় অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা এড়িয়ে চলা উচিত। প্রতিটি দাওয়াতে অল্প পরিমাণে খেলে শরীর ভালো থাকবে এবং অস্বস্তিও কম হবে। বিশেষ করে রাতের খাবার খেয়েই সঙ্গে সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়া উচিত নয়। খাবারের অন্তত দুই ঘণ্টা পরে ঘুমাতে গেলে হজম ভালো হয়।

বয়স ও শারীরিক অবস্থাভেদে খাবারের ক্ষেত্রেও আলাদা সচেতনতা প্রয়োজন। তরুণ ও সুস্থ মানুষ তুলনামূলকভাবে বেশি খাবার হজম করতে পারলেও মধ্যবয়সী ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মাংস খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনি সমস্যা বা রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল রয়েছে, তাদের অবশ্যই খাবারে নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সীমিত পরিমাণে কম চর্বিযুক্ত মাংস খাওয়াই তাদের জন্য ভালো।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ঈদের সময় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মিষ্টিজাতীয় খাবার নিয়ন্ত্রণ করা। একইভাবে কিডনি রোগীদের অতিরিক্ত প্রোটিন খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হয়। আবার যাদের গ্যাস্ট্রিক, আলসার, কোষ্ঠকাঠিন্য বা পাইলসের সমস্যা রয়েছে, তাদের পর্যাপ্ত পানি, ফল, শরবত ও আঁশযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া প্রয়োজন। এতে হজম ভালো হয় এবং শারীরিক অস্বস্তি কমে।

অনেকেই ঈদের সময় কলিজা, মগজ, ভুঁড়ি, পায়া বা নেহারি খেতে পছন্দ করেন। এসব খাবার সুস্বাদু হলেও অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে কলিজা ও মগজে কোলেস্টেরলের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে। তাই স্বাদের জন্য অল্প পরিমাণে খাওয়াই উত্তম।


ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে হলে পর্যাপ্ত পানি পান করাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। তবে খাবারের ঠিক মাঝখানে অতিরিক্ত পানি পান করলে হজমে সমস্যা হতে পারে। তাই খাবারের কিছু সময় পর পানি পান করা ভালো। পাশাপাশি কোমল পানীয়ের পরিবর্তে লেবুর শরবত, দইয়ের শরবত বা বোরহানি পান করা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হতে পারে।

শুধু খাবারের দিকেই নয়, শরীরচর্চার দিকেও নজর রাখা প্রয়োজন। ঈদের ব্যস্ততার মাঝেও নিয়মিত হাঁটাহাঁটি বা হালকা ব্যায়াম শরীরকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত ক্যালরি কমাতে সহায়ক হয়।

কোরবানির পর অতিরিক্ত মাংস সংরক্ষণেও সতর্ক থাকা জরুরি। মাংস ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে পরিষ্কার পাত্রে বা প্যাকেটে ফ্রিজে সংরক্ষণ করলে দীর্ঘদিন ভালো থাকে। যাদের ফ্রিজ নেই, তারা মাংস ভালোভাবে রান্না বা শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে পারেন। খাবারের আগে অবশ্যই মাংসের গুণগত মান ঠিক আছে কি না তা দেখে নেওয়া উচিত।

ঈদ মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর একসঙ্গে সময় কাটানোর উৎসব। আর এই আনন্দ আরও সুন্দর হয়ে ওঠে যখন খাবারের স্বাদের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরিমিত খাবার, স্বাস্থ্যকর অভ্যাস এবং সচেতন জীবনযাপনই পারে ঈদের আনন্দকে আরও নিরাপদ, সুন্দর ও পরিপূর্ণ করে তুলতে।



/ইউএমএইচ



  বিষয়:   ঈদুল  আজহা  কোরবানি 


Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: