শ্রীলঙ্কার একটি রেলওয়ে স্টেশনের পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশের ভূয়সী প্রশংসা করতে গিয়ে নিজের দেশ ভারতকে সবচেয়ে নোংরা দেশ বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের জনপ্রিয় মডেল, অভিনেত্রী ও ট্রাভেল ভ্লগার শেহনাজ ট্রেজারি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার এই বক্তব্য সংবলিত ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক ও আলোচনা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার অন্যতম জনপ্রিয় ও দৃষ্টিনন্দন ‘এলা’ রেলওয়ে স্টেশন ভ্রমণে যান শেহনাজ। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, আন্তর্জাতিক পর্যটকরা অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও নান্দনিক এক পরিবেশে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন এবং ছবি তুলছেন। চারপাশের এই চমৎকার পরিবেশ নিজের ক্যামেরায় ধারণ করার সময় ভারতের সাথে তুলনা টেনে কিছুটা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন শেহনাজ। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, আসুন সত্যটা স্বীকার করি। আমরাই পৃথিবীর সবচেয়ে নোংরা দেশ। একই সাথে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন ভারতের নদীগুলো প্লাস্টিকে ভরা থাকে এবং কেন পাহাড়, সমুদ্র সৈকত বা মন্দিরের পাশে পর্যটকদের আবর্জনার স্তূপ দেখতে হয়?
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) এবং ইনস্টাগ্রামে এই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর তা মূলত দুটি ভিন্ন মতামতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
নেটিজেনদের একটি বড় অংশ শেহনাজের এই রূঢ় মন্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে বলছেন, ভারতে যত্রতত্র ময়লা ফেলা, থুতু দেওয়া এবং নাগরিক সচেতনতার অভাব একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। বহু ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক পর্যটন কেন্দ্র কেবল আবর্জনা ব্যবস্থাপনা ও অপরিকল্পিত স্যানিটেশনের কারণে তাদের সৌন্দর্য হারাচ্ছে। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, এটি স্কুল থেকেই শেখানো উচিত। আমাদের দেশের মানুষ অন্য দেশে গেলে সব নিয়ম মেনে চলে, অথচ নিজের দেশে যেখানে-সেখানে থুতু ফেলে। অন্য একজন কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, যারা রাস্তাঘাট নোংরা করে, তাদের শাস্তিস্বরূপ ১৫ দিন পুলিশি পাহারায় রাস্তা পরিষ্কার করানো উচিত।
অন্যদিকে, অনেকেই শেহনাজের এই মন্তব্যকে একটি বিশাল ও বৈচিত্র্যময় দেশের প্রতি ‘অন্যায় সাধারণীকরণ’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন। প্রতিবাদকারীদের দাবি, ভারতের ইন্দোর, মহীশূর বা গ্যাংটকের মতো বহু শহর ও পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে যা পরিচ্ছন্নতার দিক থেকে বিশ্বমানের। এছাড়া, শ্রীলঙ্কার একটি ছোট ও সম্পূর্ণ পর্যটন-নির্ভর রেলওয়ে স্টেশনের সাথে ভারতের বিপুল জনসংখ্যা অধ্যুষিত কোনো শহরের তুলনা করা মোটেও যৌক্তিক নয়। এক ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, আমাদের শহরগুলোর যেটুকু সুনাম অবশিষ্ট ছিল, তা নষ্ট করেছে ফুড ভ্লগাররা।
/কহু