রোহিঙ্গাদের প্রার্থনা : আগামী ঈদ হোক নিজ দেশে

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা

সারাদেশ

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ৩২টি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে আরও একটি ঈদুল আজহা কেটে গেলো আনন্দের বদলে দীর্ঘশ্বাস, অভাব আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ভার

2026-05-28T20:54:53+00:00
2026-05-28T20:54:53+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
রোহিঙ্গাদের প্রার্থনা : আগামী ঈদ হোক নিজ দেশে
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ৮:৫৪ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ৩২টি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে আরও একটি ঈদুল আজহা কেটে গেলো আনন্দের বদলে দীর্ঘশ্বাস, অভাব আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ভার নিয়ে। বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা যখন কোরবানি, পারিবারিক মিলন ও উৎসবের আনন্দে ঈদ উদযাপন করছেন, তখন ক্যাম্পে থাকা লাখো রোহিঙ্গার জন্য এবারের ঈদও হয়ে উঠেছে নিঃশব্দ বেদনার আরেকটি অধ্যায়।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ৭টায় ক্যাম্পগুলোর বিভিন্ন স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হলেও বহু বছরের বাস্তুচ্যুত জীবনে সেই স্বাভাবিক ঈদ-উচ্ছ্বাস এবারও অনুপস্থিত ছিল। নামাজ শেষ হলেও ক্যাম্পজুড়ে ছিল না উৎসবের সেই প্রাণচাঞ্চল্য, বরং ছড়িয়ে ছিল নীরবতা ও হতাশা।

বাংলাদেশে আশ্রিত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার বড় একটি অংশ এবার ঈদ কাটিয়েছেন চরম অভাব, খাদ্য সংকট এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে। দীর্ঘদিন ধরে নিজ দেশে ফেরার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় তাদের হতাশা দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে। বরং সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

২০২৫ সালের রমজানে কুতুপালং ক্যাম্পে এক ইফতার অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আশা প্রকাশ করেছিলেন, আগামী ঈদে রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ঈদ করতে পারবেন। জাতিসংঘ মহাসচিবের উপস্থিতিতে দেওয়া সেই আশ্বাস ক্যাম্পের মানুষের মধ্যে নতুন স্বপ্ন জাগালেও বাস্তবে এক বছরের বেশি সময় পরও প্রত্যাবাসনে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

উল্টো ঘনবসতি, খাবারের সংকট, নিরাপদ পানির অভাব এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ক্যাম্পের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

মৌচনী নতুন ক্যাম্পের বাসিন্দা সৈয়দ আলম বলেন, ‘ছেলেকে নতুন জামা কিনে দিতে পারিনি। খাবার জোগাড় করাই এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা।’

বালুখালী ক্যাম্পের বাসিন্দা দিল মোহাম্মদ ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, প্রতিশ্রুতি থাকলেও নিজ দেশে ফেরার কোনো বাস্তব অগ্রগতি হয়নি। বরং তারা এখনো কাঁটাতারের ভেতর বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন।

অন্যদিকে মধুরছড়া ক্যাম্পের ছোনো আরা বেগম জানান, নবজাত সন্তানের প্রথম ঈদেও দারিদ্র্যের কারণে তিনি নতুন পোশাক দিতে পারেননি।

রোহিঙ্গা সংগঠনের নেতারাও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অগ্রগতিহীনতায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, “রোহিঙ্গাদের ঈদ এখন বিষাদের প্রতীক। প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে কোনো পরিবর্তন আসেনি।”

এদিকে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের দপ্তর জানিয়েছে, তহবিল সংকটের কারণে এবার কোরবানির মাংস বিতরণও কম হয়েছে। ক্যাম্পগুলোতে পরিবারপ্রতি এক কেজি মাংস বিতরণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতার পর বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় লাখো রোহিঙ্গা। সময় গড়ালেও তাদের প্রত্যাবাসন এখনও অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।

বছরের পর বছর বন্দি জীবনের বাস্তবতায় রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া এখন একটাই—নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ ভূমি আরাকানে ফিরে গিয়ে আবারও পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করা।

/এসএকে


  বিষয়:   রোহিঙ্গা  প্রার্থনা  আগামী  ঈদ  দেশ 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: