আমাদের সমাজের অনেকেই নানা কারণে ঈদের দিন (১০ জিলহজ) কোরবানি দিতে পারেন না। তবে এতে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, জিলহজের ১০ থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোরবানি আদায়ের সময় থাকে। এই তিন দিনের যেকোনো সময় কোরবানি করা বৈধ।
তবে ফজিলতের দিক থেকে প্রথম দিন কোরবানি করা সবচেয়ে উত্তম। এরপর পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনের অবস্থান। তাই কেউ যদি ঈদের দিন কোরবানি দিতে না পারেন, তাহলে পরবর্তী দুই দিনের মধ্যেও কোরবানি আদায় করতে পারবেন।
তবে কোনো ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ে ওয়াজিব কোরবানি আদায় করতে না পারলে ইসলামে তার জন্য বিশেষ বিধান রয়েছে। এক্ষেত্রে তাকে সদকা আদায় করতে হবে। তবে সদকার ধরন নির্ভর করবে তিনি কোরবানির পশু কিনেছিলেন কি না—তার ওপর।
যদি কেউ কোরবানির জন্য আগে থেকে কোনো পশু ক্রয় না করে থাকেন, তাহলে তার ওপর একটি কোরবানিযোগ্য ছাগলের সমপরিমাণ অর্থ সদকা করা ওয়াজিব হবে। আর যদি তিনি পশু কিনে রাখেন কিন্তু কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোরবানি দিতে না পারেন, তাহলে সেই পশুটি জীবিত অবস্থায় সদকা করে দিতে হবে।
এ ছাড়া কেউ যদি কোরবানির নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর পশু জবাই করেন, তাহলে ওই পশুর পুরো গোশত সদকা করে দিতে হবে। এমনকি জবাইয়ের কারণে পশুর মূল্য যদি জীবিত অবস্থার তুলনায় কমে যায়, তাহলে যে পরিমাণ মূল্য কমেছে সেটিও সদকা করতে হবে।
ইসলামের বিধান মানুষকে দায়িত্বশীলতা, সময়ানুবর্তিতা ও যথাসময়ে ইবাদত পালনের শিক্ষা দেয়। তাই সামর্থ্যবান মুসলমানদের উচিত নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কোরবানি আদায় করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সচেষ্ট থাকা।
সূত্র : বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০২-২০৪, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২০-৩২১, ফতোয়ায়ে কাজিখান ৩/৩৪৫
/এসএকে