ইরানের সাথে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তেলের বাজারে ততই বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসছে। যুদ্ধের প্রভাবে দেশটির অপরিশোধিত তেল, পেট্রোল ও ডিজেলের জাতীয় মজুদ এখন আশঙ্কাজনক গতিতে ফুরিয়ে আসছে। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত মার্কিন ফেডারেল সরকারের সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার জেরে গত কয়েক মাস ধরে ওমান উপসাগর ও পারস্য উপসাগরের সংযোগস্থল ‘হরমুজ প্রণালী’ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের এই প্রধান রুটটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিপাকে পড়েছে মার্কিন জ্বালানি শিল্প। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল আমদানির পথ সীমিত হয়ে আসায় বাধ্য হয়ে দেশটিকে এখন জরুরি ভিত্তিতে নিজেদের সংরক্ষিত (স্টোরেজ) তেলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করতে হচ্ছে।
মার্কিন সরকারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঐতিহ্যবাহী ‘মেমোরিয়াল ডে’ ছুটির সপ্তাহের ঠিক আগেই যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক ও জরুরি কৌশলগত মজুদ থেকে মাত্র এক সপ্তাহে আরও ১ কোটি ৭৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং অন্যান্য জ্বালানি পণ্য উধাও হয়ে গেছে।
সিএনএনের প্যতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালীর এই দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা যদি দ্রুত নিরসন না হয়, তবে অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের ঘাটতি মেটাতে গিয়ে মার্কিন প্রশাসন চরম সংকটে পড়তে পারে। মেমোরিয়াল ডে-র মতো বড় ছুটির দিনগুলোতে দেশটিতে সাধারণত জ্বালানির চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এই মুহূর্তে চাহিদার তুলনায় মজুদ দ্রুত হ্রাস পাওয়ার কারণে সামনের দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোল পাম্প ও খুচরা বাজারে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
/কহু