কোনো মুমিন ব্যক্তি যখন নিজের কষ্টার্জিত অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় বায়তুল্লাহর পথে যাত্রা করেন, তখন তাঁর সবচেয়ে বড় চাওয়া থাকে—তাঁর হজ যেন আল্লাহর দরবারে কবুল হয়। কারণ নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘কবুল হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৭৭৩)
হাদিসে কবুল হজকে বলা হয়েছে ‘হজে মাবরুর’। হজ কবুল হওয়া সম্পূর্ণ আল্লাহর ইচ্ছাধীন। তবে একজন হাজির জীবনে কিছু সুন্দর পরিবর্তন দেখা দিলে তা হজ কবুল হওয়ার আশাব্যঞ্জক লক্ষণ হতে পারে। নিচে কিছু লক্ষণ নিয়ে আলোচনা করা হলো।
১. ইমান ও আমলে দৃঢ়তা বৃদ্ধি
হজের পর মানুষের নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির ও অন্যান্য নেক আমলের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়। আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা এবং দ্বীনের পথে চলার দৃঢ়তা আগের চেয়ে অনেক বেশি অনুভূত হয়।
২. আখেরাতমুখী জীবন
হজের পর দুনিয়ার চাকচিক্যের প্রতি মোহ কমে যায় এবং আখেরাতের চিন্তা বৃদ্ধি পায়। মানুষ তখন বেশি বেশি নেক কাজ করতে চায় এবং পরকালের সফলতার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে থাকে।
৩. পাপ থেকে দূরে থাকা
সুদ, ঘুষ, মিথ্যা, গিবত, অন্যায় ও হারাম কাজ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে চলার চেষ্টা শুরু হয়। একজন হাজির অন্তর কোমল ও নম্র হয়ে ওঠে।
৪. বিনয়ী হওয়া
হজ করার পরও একজন মুমিন নিজের আমল নিয়ে অহংকার করেন না। বরং তিনি সবসময় ভয় করেন—আল্লাহ তাঁর হজ কবুল করেছেন কি না। এই বিনয়ই প্রকৃত মুমিনের পরিচয়।
৫. লোক দেখানো থেকে বেঁচে থাকা
নামের আগে ‘হাজি’ লাগিয়ে অহংকার করা বা মানুষের প্রশংসা পাওয়ার মানসিকতা থেকে দূরে থাকা উচিত। বরং ভালো কাজে অন্যদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করাই একজন মকবুল হাজির বৈশিষ্ট্য।
৬. দান-সদকা ও ইবাদতে আগ্রহ বৃদ্ধি
হজের পর জামাতে নামাজ পড়ার আগ্রহ বাড়ে। পাশাপাশি গরিব-দুঃখীর সাহায্য করা, দান-সদকা করা এবং মানুষের উপকারে এগিয়ে আসার মানসিকতা তৈরি হয়।
৭. আল্লাহর ওপর ভরসা বৃদ্ধি
একজন হাজির অন্তরে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে যায়। তিনি বিশ্বাস করেন—আল্লাহই তাঁর জন্য যথেষ্ট।
৮. আল্লাহর স্মরণ বৃদ্ধি পাওয়া
হজ মানুষকে আল্লাহর জিকিরমুখী করে তোলে। একজন হাজি বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করেন, তাসবিহ পড়েন এবং নিজের সময়কে ইবাদতে ব্যয় করার চেষ্টা করেন।
৯. সত্য ও সঠিক জ্ঞান অর্জনের আগ্রহ
হজের পর ইসলামের সঠিক জ্ঞান অর্জনের আগ্রহ বেড়ে যায়। মানুষ নিজের ভুলগুলো শুধরে নিতে চায় এবং নিজেকে আরও পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করে।
১০. ইসলামের বিধান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা
একজন মুমিনের জীবন শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতে সীমাবদ্ধ থাকে না। তিনি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামের সুন্দর আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেন এবং ভালো কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার দাওয়াত দেন।
হজ একজন মানুষের জীবনে আত্মিক পুনর্জন্মের মতো। হজের আগে ও পরের জীবনের মধ্যে যদি ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায় এবং সেই পরিবর্তন স্থায়ী হয়, তাহলেই হজের প্রকৃত সার্থকতা অর্জিত হয়।
/এসএকে