পবিত্র ঈদুল আজহা ঘিরে পাবনার বেড়া উপজেলার মহাসড়ক ও গ্রামাঞ্চলের আঞ্চলিক সড়কগুলোতে সিএনজি, অটোরিকশা ও অটোভ্যান চালকদের বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ঈদের তিনদিন আগে থেকে শুরু হয়ে ঈদের পর প্রায় এক সপ্তাহ পর্যন্ত চলা এই ভাড়ার নৈরাজ্যে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ পর্যন্ত বেশি ভাড়া আদায় করছেন চালকরা। এতে শহর থেকে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে আসা মানুষ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উভয়েই বিপাকে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদুল আজহার দিন বিকেলে উপজেলার আওয়াল বাঁধ এলাকায় এক ভ্যানচালকের সঙ্গে যাত্রী হাশেম আলীর বাকবিতণ্ডার সময় সরেজমিনে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি জানান, মোহনগঞ্জ বাজার থেকে ওই এলাকার নির্ধারিত ভাড়া ২০ টাকা। ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ১০ টাকা বকশিস দেওয়ার পরও ভ্যানচালক তার কাছে ৪০ টাকা ভাড়া দাবি করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হলে পরে স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসা করেন।
ঈদের পরদিন উপজেলার প্রাণকেন্দ্র সিঅ্যান্ডবি বাসস্ট্যান্ডে কথা হয় কাজিরহাট থেকে সিএনজিতে আসা যাত্রী বাচ্চু মোল্লার সঙ্গে। তিনি বলেন, কাজিরহাট থেকে বেড়া সিঅ্যান্ডবি পর্যন্ত সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৬০ টাকা। কিন্তু ঈদের কারণে আমাকে ২০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ না করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রশাসনকে বলে কী লাভ ভাই! মাঝে মাঝে লোক দেখানো অভিযান চালায়, পরে আবার আগের মতোই ভাড়ার নৈরাজ্য চলতে থাকে।
অনেক যাত্রী জানান, বিগত সরকারের সময়ও ঈদের আগে ও পরে একই ধরনের অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয়েছে। নতুন সরকার এলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে বলে আশা করেছিলেন তারা, কিন্তু বাস্তবে কোনো পরিবর্তন হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।
উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ও জনসমাগম এলাকায় কথা বলে জানা যায়, অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে অনেক মানুষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঈদের সময় বাইরে বের হন না। কেউ কেউ বেশি ভাড়া এড়াতে নিকটবর্তী গন্তব্যে হেঁটেই যাতায়াত করছেন।
বেড়া উপজেলা রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. মঈন উদ্দীন খাজা বলেন, আমরা যতটুকু জানি, ঈদ উপলক্ষে চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে খুশিমনে কিছু বকশিস চান। তবে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেনি।
আরবিএন