ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের অরক্ষিত অংশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার জন্য ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স ‘বিএসএফ’ কে মোট ৭২১ হেক্টর জমি বুঝিয়ে দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নবগঠিত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ভারতের গুজরাট অঙ্গরাজ্যের গান্ধীনগর শহরে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের জনসভায় অমিত শাহ বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দেওয়া এই ৭২১ হেক্টর জমির মধ্যে ৬০০ হেক্টর জমি বাংলাদেশ-পশ্চিমবঙ্গ বিভিন্ন সীমান্তবর্তী অঞ্চলের এবং বাকি ১২১ হেক্টর জমি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ‘চিকেন্স নেক’ এলাকার অন্তর্গত।
ভৌগোলিক তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের মোট ৫টি রাজ্যের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ অন্যতম। বাকি রাজ্যগুলো হলো আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয় এবং মিজোরাম। এই রাজ্যগুলোর মধ্যে মূলত পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গেই বাংলাদেশের সীমান্তের বিস্তৃতি সবচেয়ে বেশি এবং বাংলাদেশের মোট ১০টি জেলার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সরাসরি সীমান্ত সংযোগ রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ-পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তের অধিকাংশ এলাকাজুড়ে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা থাকলেও কিছু কিছু কৌশলগত অংশ সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় ছিল। অরক্ষিত সেসব অংশে সীমান্ত বেড়া নির্মাণের জন্য পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের কাছে দীর্ঘদিন ধরে জমি চেয়ে আসছিল ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কিন্তু রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন জটিলতার কারণে মমতার আমলে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সেই চাওয়া পূরণ করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো রাজ্য সরকার গঠন করেছে বিজেপি এবং সেই সরকারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, যিনি একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের একজন ‘হেভিওয়েট’ নেতা ছিলেন। গত ৯ই মে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী।
গান্ধীনগরের জনসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বর্তমান রাজ্য সরকারের প্রশংসা করে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের মাত্র সাত দিনের মাথায় বিএসএফ-এর কাছে প্রয়োজনীয় সব জমি হস্তান্তর করেছে পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্য সরকার, যা সীমান্ত সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
সময়ের আলো/টিএইচ