বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য ভারতীয় সীমান্তে অপেক্ষায় শত শত মানুষ। গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহাকুমার স্বরূপনগর থানার হাকিমপুর চেকপোস্টে বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য নারী, শিশু ও পুরুষসহ শত শত মানুষ ভিড় করছেন।
শুক্রবার ভারতীয় সময় দুপুর ৩টা পর্যন্ত এই সীমান্তে নতুন করে আরও ১১৬ জন নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করে বিএসএফের খাতায় নাম নথিভুক্ত করেছেন।
সরেজমিনে হাকিমপুর সীমান্তে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই বৃষ্টিতে ভিজে শিশু, বৃদ্ধ ও নারীরা দেশে ফেরার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। স্থানীয় গণপরিবহণ, বাস ও প্রাইভেট কারে করে দলে দলে মানুষ সীমান্ত এলাকায় পৌঁছাচ্ছেন। সেখানে বিএসএফ সদস্যরা তাদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে নাম-ঠিকানা সংগ্রহের পাশাপাশি বায়োমেট্রিক ফুটপ্রিন্ট (আঙুলের ছাপ ও চোখের মণি) নিচ্ছেন।
যাদের কাছে বাংলাদেশি নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র বা বৈধ নথি রয়েছে, তা গুরুত্বের সাথে জমা নেওয়া হচ্ছে। এরপর সব তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে তাদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
সীমান্তবর্তী সূত্র জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হাকিমপুরের স্বরূপনগর বাজার ও তেঁতুলিয়া সীমান্ত এলাকার চারটি বিশেষ ‘হোল্ডিং সেন্টারে’ অন্তত সাড়ে ৩০০ কথিত বাংলাদেশি নাগরিককে আটকে রাখা হয়েছিল। এর মধ্য থেকে প্রথম দফায় ১০০ জনের তথ্য চূড়ান্ত যাচাই শেষে শুক্রবার বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে এখনও সীমান্ত এলাকা এবং হোল্ডিং সেন্টারগুলোতে নিজেদের বাংলাদেশি দাবি করা আরও প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
কথিত অনুপ্রবেশকারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন সময়ে তারা দালালের মাধ্যমে ভারতের সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করেছিলেন। সেখানে কেউ গৃহপরিচারিকা, কেউ দিনমজুর বা দিনভিত্তিক শ্রমিকের কাজ করে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তারা এখন নিজ দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। সীমান্তজুড়ে যে-কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিজিবি ও বিএসএফের পক্ষ থেকে নজরদারি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
সময়ের আলো/জেডি