সারা বছর যানজট, নির্মাণকাজের ধুলা আর অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে হাঁসফাঁস করা ঢাকার বাতাসে এখন কিছুটা স্বস্তির ছোঁয়া। ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে মানুষের চলাচল কমে যাওয়া এবং সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে বায়ুদূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
শনিবার (৩০ মে) সকালে প্রকাশিত বৈশ্বিক বায়ুমান সূচকে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ছিল ৮২। এই স্কোর অনুযায়ী বিশ্বের ১২৭টি বড় শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৯তম।
বিশ্বের অন্যতম দূষিত শহর হিসেবে পরিচিত ঢাকা বর্তমানে বায়ুমানের দিক থেকে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বাতাস এখন ‘মাঝারি’ মানের মধ্যে রয়েছে, যা নগরবাসীর জন্য স্বস্তিদায়ক খবর।
আরও পড়ুন
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের মান নির্দেশ করে যে বাতাসে দূষণ থাকলেও তা সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে না। তবে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
পরিবেশ সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজধানীতে দূষণ কমার পেছনে কয়েকটি কারণ একসঙ্গে কাজ করেছে।
ঈদের ছুটিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাওয়ায় সড়কে যানবাহনের চাপ কমেছে। একই সঙ্গে অনেক নির্মাণ প্রকল্পে কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় ধুলাবালুর পরিমাণও কমেছে। এর সঙ্গে টানা বৃষ্টিপাত বাতাসে ভাসমান ক্ষুদ্র দূষণকণাগুলোকে ধুয়ে ফেলেছে।
ফলে কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় রাজধানীর বায়ুমানে দৃশ্যমান উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একই সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ। শহরটির বায়ুমান এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
তালিকার পরের অবস্থানগুলোতে রয়েছে আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি বড় শহর। প্রতিবেশী ভারতের কলকাতাও দূষণের দিক থেকে শীর্ষ পাঁচের মধ্যে রয়েছে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, বর্তমানে ঢাকার যে উন্নত বায়ুমান দেখা যাচ্ছে, তা মূলত মৌসুমি ও সাময়িক প্রভাবের ফল। বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে দূষণ কমে এলেও শুষ্ক মৌসুম শুরু হলে আবারও ধুলা, যানবাহনের ধোঁয়া এবং শিল্পকারখানার নির্গমনের কারণে দূষণের মাত্রা বাড়তে পারে।
এএডি/